সরকারের রাজস্বখাতে নিয়োগবঞ্চিত শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে অষ্টম দিনের মত আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দুইধাপে নিয়োগপ্রাপ্ত ২০২ জনের মত তদেরেকেও নিয়োগের ঘোষণা দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনি আত্মবিশ্বাস নিয়ে রাস্তায় দিনরাত কাটাচ্ছেন মানবতার সেবাদানকারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাড়া বা আশ্বাস পাননি তারা। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আনোন্দোলনকারীরা।
অনশনে অংশগ্রণকারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে একটি ঘোষনার মাধ্যমে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার সাথে সরাসরি সংযুক্তদেরকে নিয়োগদানের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্বখাতে নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর সরকারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী কিংবা স্বেচ্ছাসেবীর ভিত্তিতে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের তালিকা চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী সকল প্রতিষ্ঠান তালিকা প্রেরণ করেছিল।
এরপর রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রমার্জনায় এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী আদেশে সরকারের রাজস্বখাতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দুইধাপে গত ১ ও ২ সেপ্টেম্বর ২০২ জনের ভাইভা নিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কর্মরত কেউই রাজস্বখাতে নিয়োগ পাননি। তাই আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে অনশনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
এদিকে,নিয়োগ বঞ্চিত কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের কর্মবিরতি ও অনশন আন্দোলনের কারণে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। বিশেষ করে আইসিইউতে থাকা রোগীর স্বজনরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
হাসপাতালের হাই কেয়ার কেবিনে ভর্তি থাকা নুসরাত জাহানের বড় ভাই জহুরুল ইসলামের কাছে অনশন আন্দোলনের মধ্যে চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের কর্মবিরতি ও অনশণ আন্দোলনের ফলে চিকিৎসাসেবা অনেকটা ব্যহত হচ্ছে। সাধারন ওয়ার্ড ও কেবিনে ভর্তি থাকা সকল রোগীর পরীক্ষা-নীরিক্ষা হাসপাতালের ল্যাবে করনে না পেরে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বাইরে করাতে হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এজন্য আন্দোলনকারীদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তা মেনে নিয়ে আমি দ্রুত এর সমাধান করতে সরকার ও কর্তৃপক্ষকে আহবান জানাচ্ছি।
অন্যদিকে প্রথম দফার আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চলতি বছরের জুলাই মাসের ২৬ তারিখে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিল।
আজ সোমবার(৭ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফার আন্দোলনে আবারো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করতে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ও হাসপাতালের (বর্তমানে করোনা ডেডিকেটেড) পরিচালক ডা. গোলাম কিবরিয়া এবং হাসপাতাল ল্যাবরেটরী ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. ইনা রহিম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। স্বাস্থ্যের ডিজির সাথে তাদের কি আলোচনা হয়েছে তা জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে কোন তথ্য দেননি।
এর আগে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়া কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের অনশনের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়া ও ল্যাবরেটরীর কার্যক্রম সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকার কথা গণমাধ্যম জানিয়েছিলেন। বিষয়টি সমাধানে আলোচনার জন্য সোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সাথে আলোচনা করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
অনশনকারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের একজন শরীফুন্নবী পাপ্পু জানান, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ গত ১৮ জুন ২০২০ তারিখে ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রেরণ করে তাদেরকে অত্র প্রতিষ্ঠানে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষার সাথে সংযুক্ত করেন। এছাড়া ডেঙ্গু শনাক্তকরণে এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে থাকলেও ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে কোন রাজ্স্বখাতভূক্ত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) কর্মরত নেই। অথচ এখানে বর্তমানে যারা কর্মরত তাদের কেউ ২০২ জনের নিয়োগে স্থান পেল না, যা চরম বঞ্চনাপূর্ণ ও আশ্চর্যজনক!
করোনা মহামারী চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে একমাত্র প্রথম ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রেলিভার ইনিস্টিটিউটকে ঘোষণা করে সরকার। আর সেই হাসপাতালেই যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাপ্তাহিক কিংবা আইসোলেশন ছুটি বাদ দিয়ে সপ্তাহে সাতদিন কর্মস্থলে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে তারাই আজ নিয়োগ বঞ্চিত। চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করতে গিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দু’জনসহ তাদের পরিবারের ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হন।
আনসারী/এমআর





