রাজশাহীর পুঠিয়া থানা থেকে ৪ শিবির কর্মীকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে পরিকল্পিত ভাবে জেএমবি’র সাথে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন এ প্রতিবাদ জানান।

তারা বলেন, গত ১৩ই মার্চ সন্ধায় পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার থেকে মোঃ হাবিবুর রহমান, রাকিবুল ইসলাম, মোঃ নেওয়াজ সরকার এবং মোঃ সোহেল রানা নামের চার শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ গ্রেপ্তারের পক্ষে কোন যৌক্তিক কোন কারণ দেখাতে না পারলেও অন্যায় ভাবে তাদেরকে একদিন থানায় আটক রাখে। পরবর্তীতে পরিকল্পিত ভাবে আজ তাদেরকে জেএমবি’র সাথে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে হাজির করে। যা অত্যন্ত অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তারা সবাই রাজশাহী কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র। জেএমবি বা কোন প্রকার জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে তাদের দূরতম সম্পর্ক নেই। পরিকল্পিত ভাবে তাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। জঙ্গিবাদের মত জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে পুলিশের এই নাটক অপ্রত্যাশিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, তারা ছাত্রশিবিরের কর্মী, জেএমবি বা অন্য কোন সংগঠনের সাথে তাদের সর্ম্পক আবিস্কার নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে পুলিশ।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পুলিশের একের পর এক বেআইনি কর্মকান্ড দেখতে দেখতে দেশের মানুষ বিরক্ত ও ক্ষুদ্ব। নিরাপরাধ ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে তাদের নিয়ে নাটক সাজানো ও ইচ্ছামত মামলায় জড়িয়ে দেয়া পুলিশের নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়েছে। এই অমানবিক ও দায়িত্বহীন আচরণ এক দিকে যেমন অনেক নিরীহ ছাত্রের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির ভাব মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে। যা একটি রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জাজনক।

নেতৃবৃন্দ নিরাপরাধ শিবির কর্মীদের মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার মুক্তির দাবি করেন। একই সাথে ভবিষ্যতে এমন আইনের শাসনের পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

বিজ্ঞপ্তি