গত ১৪ বছরে বিভিন্ন নদীতে প্রায় ৪৯০টি লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৫ হাজারের অধিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। অথচ প্রশাসন এবং সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিরবতা পালন করছেন।
জানা যায়, নকশা ছাড়া লঞ্চ নির্মাণ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও লক্কড় ঝক্কড় মার্কা লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে অনভিজ্ঞ চালকদের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক লঞ্চ দূর্ঘটনায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে প্রাণহানি ও নিখোজেঁর ঘটনা বেড়েই চলছে।

সংশ্লিস্ট সূত্রমতে, ২০০০ সালে ১৫টি লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৪৩৯ জন, ২০০১ সালে ৭৬টি দুর্ঘটনায় ৩৯২ জন, ২০০২ সালে ২৮টি দুর্ঘটনায় ৬ শতাধিক, ২০০৩ সালে ৬৪টি দুর্ঘটনায় ১২০৫ জন, ২০০৪ সালে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন,২০০৫ সালে ৪৯টি দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন, ২০০৬ সালে ৩৮টি দুর্ঘটনায় ৩৭৮জন, ২০০৭ সালে ৩৪টি দুর্ঘটনায় শতাধিক, ২০০৮ সালে ৩১টি দুর্ঘটনায় ৩ শতাধিক , ২০০৯ সালে ২৯টি দুর্ঘটনায় ৩০৮ জন, ২০১০ সালে ৩৮টি দুর্ঘটনায় ৭০ জন, ২০১১ সালে ৩৫টি লঞ্চ দুর্ঘটনায় ১৫৬ জন, ২০১২ সালের মার্চে মেঘনায় এমভি শরীয়তপুর-১ ডুবে শতাধিক নিখোঁজ, ২০১৩ সালে ১১টি দূর্ঘটনায় ৪৫০ জন এবং চলতি বছরে লঞ্চডুবে ৪ শতাধিক প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়াও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় কয়েক শতাধিক যাত্রী।

সর্বশেষ সোমবার মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা নদীতে প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ পিনাক-৬ একই দিন মেঘনা এবং চট্টগ্রামে লঞ্চ ডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোজেঁ রয়েছে। এ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় কয়েক শতাধিক যাত্রী নিহত হয়।
সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, নিয়ম বর্হিভূতভাবে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহি লঞ্চ পিনাক-৬ নির্মাণ করা হয়েছিল। সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা ফিটনেবিহীন লঞ্চ মোটা অংকের টাকা নিয়ে সার্ভে রেজিস্ট্রেশন ও নকশা অনুমোদন দিচ্ছেন।

বুড়িগঙ্গার তীরে কেরানীগঞ্জে গড়ে ওঠা ডকইয়ার্ডে পুরোনো নৌযান হয়ে যাচ্ছে নতুন। এ সব ডকইয়ার্ডে নকশা অনুযায়ী নৌযান তৈরি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন নৌপথে চলাচলকারী নৌযানের সংখ্যা ৩৫ হাজার। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন রয়েছে মাত্র ১৩ হাজারের। আর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চলাচল করছে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার নৌযান।
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সেক্টরে নিবন্ধিত নৌযানের সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে যাত্রীবাহী নৌযান ২ হাজার ২২৫টি। যাত্রীবাহী নৌযানের মধ্যে বছরে ফিটনেস পরীক্ষা বা সার্ভে করা হয় মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০টির।

নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান জানান, মাত্র ৪ জন সার্ভেয়ার দিয়ে ঠিকমত নৌযান সার্ভে করা সম্ভব হয় না। নৌ দুর্ঘটনা কমাতে লঞ্চের ফিটনেস ঠিকমত পরীক্ষা নীরিক্ষা করা যাচ্ছে না। এ জন্য প্রাইভেট সেক্টরে নৌযানের ফিটনেস দেখার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের ভিত্তিতে সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তর লঞ্চের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেবে।
ঢাকা,৪ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম,একে,এসআর





