বাঁশখালীর গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মতো স্পর্শকাতর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো বা জবরদস্তির আশ্রয় না নেওয়ার জন্যে উদ্যোক্তদের অনুরোধ জানিয়েছে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির চট্টগ্রাম শাখা।
কমিটির আহ্বায়ক কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন ও সম্পাদক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বুধবার (০৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ অনুরোধ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী গ্রামবাসীর সমাবেশ বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশের গুলিবর্ষণ ও তাতে চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন। আমরা নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাই ও আহতদের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সরকারের কাছে দাবি জানাই। একই সাথে আমরা পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানাই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের প্রয়োজনে ও উন্নয়নের তাগিদ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিশেষত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার জমির ঐতিহ্যগত ব্যবহার, জনবসতির ঘনত্ব এবং পানি, ভূমি ও গাছপালাসহ পরিবেশের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া দরকার। বিশেষত আমাদের কৃষিপ্রধান এই দেশে, লবণচাষের জন্যে খ্যাত এ অঞ্চলে এরকম একটি বৃহৎ স্থাপনা নির্মাণের আগে বিনিয়োগকারী, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে সমঝোতা বৈঠক হওয়া দরকার।
সেই সাথে পরিবেশ ও জনগণের ওপর প্রভাবসহ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা উপযুক্ত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে যাচাই করে প্রতিবেদন সবার জ্ঞাতার্থে অনলাইনে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এসটি





