উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রবিার (০৯জুলাই) সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নলীন পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ভূঞাপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও গোপালপুর উপজেলার একটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, প্রতিদিন পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে আজ রবিবার বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।
পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিনস্থানে এবং সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকার আমজাদ হোসেন বলেন, গত বছর যে বন্যা হয়েছিল এবার মনে হয় তা ছাড়িয়ে যাবে। জোকারচর এলাকার আমির হোসেন বলেন, মাত্র একদিনের ব্যবধানে একহাত পানি উপড়ে উঠেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। আমরা এখন কোথায় যাবো। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, যেভাবে পানি বাড়তেছে তাতে মনে হয় এবার আর বাড়িতে থাকতে পারমু না। পানি বাড়িতে উঠার আগেই সরে যাইতে হবো।
নদীপাড়ের ও চরাঞ্চলের মানুষরা বলেন, বছরের অর্ধেক সময় আমরা চরে থাকি আর বাকি সময় আমরা নদীরপাড়ে থাকি। এভাবে আর কতদিন। আমাদের যা কিছু উর্পাজন তা তো সব চরাঞ্চল এলাকা থেকেই করতে হয়। সরকার যদি আমাদের উপর একটু নজর দিতো তাহলে আমরা ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে প্রতিদিনই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার যমুনা নদীর টাঙ্গাইল অংশের নলীন পয়েন্টে বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।
তিনি আরও বলেন, যমুনানদীর প্রায় প্রতিটি প্রয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রায় সবগুলো পয়েন্টিই বিপদসীমার কাছাকাছি। আসতে আসতে সবগুলোই পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
কাওছার/এমই





