৩ নভেম্বর। আজ পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কজনক জেলহত্যা দিবস। এই দিনে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় ৪ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ঠ এ ৪ সহচরের হত্যাকাণ্ডের পরদিন তথা ৫ নভেম্বর তৎকালীন পুলিশের ডিআইজি প্রিজন মো. আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৭৫ সালের এ দিনেই লালবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ওসি এবিএম ফজলুল করিমকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।

ওই বছরের ২১ নভেম্বর মামলার তদন্তভার সিআইডিকে দেয়া হয়। ওই সময় সুপ্রিমকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফলে মামলার তদন্ত সিআইডি আর করতে পারেনি।

পরে ১৯৭৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবারো তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তদন্তের বদলে মামলাটি ঝুলে থাকে প্রায় ২১ বছর। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। সে সময় এই মামলায় লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক হোসেন, লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান এবং মেজর (অব.) মো. খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২০ জনকে আসামি করে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়া হয়। ৬ বছর শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এতে ৩ জনকে ফাঁসি এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া অভিযুক্ত ৪ রাজনীতিবিদ কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নূরুল ইসলাম মঞ্জুর, তাহের উদ্দিন ঠাকুর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান বেকসুর খালাস পান।

পরে ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ এবং দফাদার আবুল হাশেম মৃধাসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত লে. কর্নেল (বরখাস্তকৃত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) বজলুল হুদা এবং মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমদকে খালাস দেয়।

তবে রিসালদার মোসলেমউদ্দিন খানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে পলাতক অপর ৮ আসামি অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল রাশেদ চৌধুরী, মেজর আহমদ শারফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন মো. কিসমত হাশেম, ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন আনসারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে হাইকোর্ট।

২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আপিলের অনুমতি পাওয়ার পর সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি শেষে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়।

এ রায়ে জেলহত্যা মামলার পলাতক আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

এসএইচ/এএইচ