চুলার আগুনে নয় গ্যাসের লাইনে লিক ছিল। সেই লিক লাইন থেকে নির্গত
গ্যাসের আগুনে পুড়েছেন রাজধানীর আজিমপুর কলোনির বাসিন্দা (বাসা নাম্বার
-৪৬/আই) সালামত হোসেন (৪৮) ও তার স্ত্রী লাভলী আক্তার (৪০)। শনিবার আনুমানিক ভোর
সাড়ে ৬টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ সালামত হোসেন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
পরে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন, লাভলী আক্তারের শরীরের ৮০ শতাংশ ও সালামত
হোসেনের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
লাভলী আক্তারের ননদ মুন্নি বেগম জানান, আনুমানিক ভোর ৬টায় গ্যাসের চুলায়
পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সালামত হোসেন। পরে লাভলী আক্তার গ্যাসের
চুলার আগুন নেভাতে গিয়ে দেখে পুরো রান্না ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন
নেভাতে গিয়েই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন তিনি। তার চিৎকারে গ্যাসের লাইন বন্ধ
করতে গিয়ে সালামত হোসেনও দগ্ধ হন।
পরে তাদের দু'জনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভায়।
দগ্ধদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন
ইউনিটে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন মনির হোসেন নামে নিচের ফ্লাটের এক
বাসিন্দা। মনির হোসেন টাইমনিউজবিডি’কে জানান, লাইনে লিক থাকায় পুরো
রান্না ঘরে নির্গত গ্যাস থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
দগ্ধ সালামত হেসেনের বোন মুন্নি জানান, এই বিল্ডিংয়ে গ্যাসের লাইনে
সমস্যা আছে। গ্যাসে লাইনে সমস্যার বিষয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো
হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। এর আগে এই বিল্ডিংয়ে লোপা নামে সিটি
কলেজের এক ছাত্রী একই ভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে। এরপরও সচেতন হয় নি
কর্তৃপক্ষ।
লাভলী আক্তারের বোন জামাই বাংলাদেশ বেতারের ড্রামা প্রডিউসার মোশাররফ
হোসেন জানান, সালামত ভাইয়ের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে নাঈম অগ্রণী কলেজে
৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। মেয়ে লিমা অগ্রণী স্কুল এ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীতে পড়ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ
শংকর পাল টাইমনিউজবিডি'কে জানান, লাভলী আক্তারের শরীরের ৮০ শতাংশ ও সালামত
হোসেনের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
চিকিৎসা চলছে। লাভলী আক্তারের অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় নিবিড় চিকিৎসার
জন্য আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা, জেইউ, ৮ মার্চ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) //এসআর