২০ দলীয় জোট ঘোষিত কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে মাঠে নেই কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলকার বিএনপি নেতারা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্যতম প্রধান ব্যস্ততম স্থান হিসেবে পরিচিত সদর দক্ষিণের পাদুয়া বাজার বিশ্বরোড। সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল করার জন্যও খুঁজে পাচ্ছে না কোনো নেতাকে।

নাঙ্গলকোট উপজেলাসহ এই উপজেলাটি কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভূক্ত। এখানে রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক ও সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী, আরেক সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবদুল গফুর ভূঁইয়া ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।

চলমান সরকার বিরোধী অবরোধে এই তিন বড় নেতাকে কর্মীরা হন্য হয়ে খুঁজলেও সদর দক্ষিণ কিংবা নাঙ্গলকোটের কোথাও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নেতারাও দলীয় নেত্রীর ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালন করার জন্য কর্মীদের কোনো নির্দেশনা দিচ্ছে না। অপরদিকে সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা ক্লাব থেকে কক্সবাজারে গেছেন পিকনিক করতে।

সদর দক্ষিণের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বক্তব্য, যেই নেত্রীর রাজনীতি করে আজ একেক নেতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আজ সেই নেত্রী যখন আট দিন ধরে অবরুদ্ধ তখন ঐ নেতারা কেউ খালেদা জিয়ার জন্য একটি মিছিল করারও সময় বের করতে পারেন না। চলতি আন্দোলন সম্পর্কে মঙ্গলবার সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করলে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন এখানকার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, ভাই, আমরা জিয়ার সৈনিক। আমাদের দেশনেত্রী আজ ৮ দিন ধরে অবরুদ্ধ। বলতে দুঃখ হয়, লজ্জা লাগে, এই পর্যন্ত কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির ব্যানারে কিংবা মনিরুল হক চৌধুরীর ঐক্য সংহতির ব্যানারে একটি মিছিল করতেও আমরা পারলাম না। না পারছে উপজেলা বিএনপি না পারছে মনির চৌধুরীর গ্রুপ। অথচ এমপি নির্বাচন হলে এই আসন থেকে মনির চৌধুরী, গফুর ভূঁইয়া ও মোবাশ্বের ভূঁইয়া তিনজনই নির্বাচন করার জন্য প্রার্থী হতে চাইবেন। তারা একেক জন নিজকে বড় নেতা বলে দাবি করেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, এই তিন নেতার কেউই গত ৮দিনের মধ্যে এক মিনিটের জন্যও কর্মীদের একটি মিছিল করার জন্যও বলেছেন বলে আমরা শুনিনি। সদর দক্ষিণ উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা বলেন, মনির চৌধুরী, গফুর ভূঁইয়া ও মোবাশ্বের ভূঁইয়া এই তিন নেতার কথা বাদ দেন।

উপজেলা যুবদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্মীদের রাজপথে ফেলে মাহবুব চৌধুরী আমোদ-ফুর্তি করতে কক্সবাজার যাওয়ার কারণে এবং নেত্রীর নির্দেশ লংঘন করে অবরোধে গাড়িতে করে যাওয়ার কারণে তার পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করা উচিত। অপরদিকে, নেতাকর্মীদের আন্দোলন সংগ্রামে কোনো দিক নির্দেশনা না দেয়ার কারণে মনিরুল হক চৌধুরী, আবদুল গফুর ভূঁইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকেও দল থেকে বাদ দেয়া উচিত।

কেএইচ