একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমকে (আরমান) বাসা থেকে জোর করে পুলিশ তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

মীর কাসেম আলীর মেয়ে তাহেরা তাসনীম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এমনটি দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার রাত সোয়া এগারোটার দিকে দেয়া ওই স্ট্যাটাসে তাহেরা বলেন, সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক নিজেদেরকে পুলিশ দাবি করে মীর আহমেদ বিন কাসেমকে তুলে নিয়ে যায়।

স্ট্যাটাসে আরো অভিযোগ করা হয়, কোন ধরনের পূর্ব নোটিস এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই তার ভাইকে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

এ সময় বাসায় অবস্থানকারী নারীরা পুলিশকে বাধা দিতে গেলে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয় বলেও তাহেরা অভিযোগ করেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে।

এদিকে, মীর আহমদে বিন কাসেমকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার কিছুই বুঝতে পারছেন না দাবি করে তাহেরা ফেসবুক স্ট্যাটাসে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে তার ভাইয়ের কলিগ ও বন্ধুদের সাহায্য কামনা করেন তাহেরা।

তবে, এ বিষয়ে রাত সাড়ে ১২টায় মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়শা খাতুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে জানান, তার ছেলেকে রাজধানীর মিরপুরে ডিওএইচএসের ভাড়া বাসা থেকে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আটক করা হয়।

এ সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশ পরিচয়ধারী আটককারীদের আইডি কার্ড দেখতে চাইলে তারা পরিবারের সদস্যদের কোন কার্ড দেখাননি বলেও জানান আয়শা খাতুন।

তিনি আরো বলেন, যেই বাসা থেকে ব্যারিস্টার আরমানকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ সেটি পল্লবী থানার অধীনে থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা আইনজীবীসহ থানায় আসার জন্য বলেছেন।   

তবে, বাসায় কোন পুরুষ সদস্য না থাকায় এই মুহুর্তে থানায় যাবেন কীনা বা কাকে নিয়ে যাবেন তা এখনও (রাত পোনে একটা) ঠিক করতে পারেননি বলেও জানান মীর কাসেমের স্ত্রী।

এদিকে আজ (বুধবার) সকালে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মীর কাসেম আলীর স্ত্রী জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় রাতে যোগাযোগ করা হলে তারা সকালে আসতে বলেন। তবে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও পরিবারের কেউ থানায় যায়নি। 

ব্যারিস্টার আরমানের মা খন্দকার আয়শা খাতুন আরো বলেন, তারা থানায় যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইনজীবীদের সাথেও এ নিয়ে পরামর্শ করবেন বলেও জানান তিনি। 

এদিকে, আহমেদ বিন কাসেমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে গত রাতে দৈনিক প্রথম আলোকে জানান পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির। পুলিশ এ নামে কাউকে আটক করেনি বলেও  জানান ওসি দাদন। 

কেবি