দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সরকারের অন্যতম মেগা প্রজেক্ট মেট্রোরেলের কাজ। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রতিদিন রাজধানীর ৫ লাখ মানুষ যাতায়াত করতে পারবে মেট্রোরেলে। এর ফলে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি কমবে যানজট।

মেট্রোরল প্রকল্পের ২০ কিলোমিটার উড়ালসড়কের মধ্যে এখন পর্যন্ত চার কিলোমিটারের মতো দৃশ্যমান। বাকি ১৬ কিলোমিটার সড়কে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। কোথাও পাইলিং, কোনো কোনো স্থানে পিলার, কিছু কিছু স্থানে চলছে উড়ালসড়কের স্ল্যাব (যেটা দিয়ে ট্রেন চলবে) বসানোর কাজ।

পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত নগরী রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা এখন ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি। নগরবাসীর যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণে ২০১২ সালে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। ৮টি প্যাকেজে বিভক্ত হয়ে এমআরটি লাইন-৬ বা মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলছে।

এর মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজের আওতায় উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাও পর্যন্ত অংশটির কাজ এগিয়ে রয়েছে।

মেগা প্রজেক্ট মেট্রোরেলের এখন প্রায় ৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অংশে ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে ৩টি স্টেশনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

দেশের বাইরে জাপানের কারখানায় ইঞ্জিন-কোচ তৈরির কাজও চলমান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মেট্রোরেল চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

প্রকল্প অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন বলছে, গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের অগ্রগতি ৩৯ থেকে ৯৩ শতাংশ।

শুরুতে সরকার উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ চলতি বছরের ডিসেম্বরে চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গতিতে কাজ না এগোনোর কারণে পুরো সড়কই ২০২১ সালে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মেট্রোরেল বাংলাদেশে প্রথম এবং কারিগরি দিক থেকে এটি একটি জটিল প্রকল্প। ফলে তাড়াহুড়ো করে এর নির্মাণকাজ শেষ করার সুযোগ নেই। তবে প্রকল্প চলাকালীন যানবাহন ব্যবস্থাপনায় কিছুটা অব্যবস্থাপনা হচ্ছে। এ জন্য মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা দেখাতে হবে।

এএস