নোয়াখালীর বিছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলায় কোমেনের প্রভাবে শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষনে কাঁচা ঘরবাড়ী গাছপালা বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ায় বিছিন্ন হয়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১ শত কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত ও ৫ হাজার গাছপালা ভেঙ্গে ও উপড়ে যায়। নলচিরা ইউনিয়নের ৩টি স্থানে বেড়িবাধ ছিড়ে যাওয়ায়, ভাঙা বেড়ি মেরামত না করা ও নিঝুমদ্বীপ সহ চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মান না করার কারণে জোয়ারে এ সব এলাকা দিয়ে প্রতিদিন পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। বৈরী আবহাওয়ায় নদীর অবসস্থা খারাপ থাকায় ও সাগর উত্তাল হওয়ায় হাতিয়ার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নদী পথে সিট্রাক, ট্রলার ও নৌকা যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বন্ধ রয়েছে হাতিয়ার চেয়াম্যানঘাট- নলচিরাঘাট ও চেয়ারম্যানঘাট- চরচেংগা ঘাট রুটে চলাচলকারী সীট্রাক ২টি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সীট্রাক বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী চেয়াম্যানঘাট-নলচিরা ঘাট রুট দিয়ে মাইজদী, চট্রগ্রাম ও ঢাকা পারাপার করতে না পেরে চরম ভোগান্তির স্বীকার ও মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এতে করে হাতিয়ার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা নৌ পথে নোয়াখালী,চট্রগ্রাম ও ঢাকা পারাপার সম্পুর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীসহ প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী সহ সর্বস্তরের কার্যক্রম ও যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়েছে।
এতে নোয়াখালী থেকে হাতিয়া ও হাতিয়া থেকে নোয়াখালী যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাছাড়া সি ট্রাক অচল হয়ে পড়ায় ডাক বিভাগ ডাক সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
ডাক বন্ধ থাকায় সকল প্রকার যোগা যোগ চিঠি পত্র ষ্ট্যাম্প আসা বন্ধ। এতে করে রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ও আসা বন্ধ। রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প না আসায় পোষ্ট অফিসে কোন রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকারী চাকুরীজীবিরা বেতন ভাতা গ্রহনের সময় ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহত রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ব্যবহার করতে পারছেনা।
গত ৬ দিনের প্রবল বর্ষন ও মৌসুমী ঝড়ো হাওয়ায় হাতিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এসব এলাকার কোথাও কোথাও ৪-৬ ফুট পানির নীছের রয়েছে। ভারী বর্ষন ও অস্বাভাবিক জোয়ারে শতাধিক মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে সম্পুর্ন মাছ ভেসে গেছে।
গ্রামের কাঁচা সড়ক গুলো দিয়ে যোগাযোগ সম্পুর্ণ বন্ধ রয়েছে। অব্যাহত ভারী বর্ষন এবং প্রচন্ড দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া,ভারী বর্ষন, বজ্রবৃষ্টির কারনে হাতিয়া পৌরসভার চরকৈলাশ গ্রাম, উকিলপাড়া, চরলটিয়া গ্রাম, বেজুগালিয়া গ্রাম ও ছখালীবাজার সহ বেশ কয়েকটি এলাকা এবং নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ছোয়াখালী, বাতায়ন, মোক্তারিয়া, নামারবাজার, বন্দরটিলা এলাকা, নলচিরা ইউনিয়নের ফরাজী গ্রাম, ষ্টিমারঘাট, অলিবাজার, তুফানিয়া গ্রাম ও সুখচর ইউনিয়নের চর আমানউল্লা গ্রাম, রামচরন বাজার, কামাল বাজার, চেয়ারম্যান বাজার,বৌ-বাজার,,দাসপাড়া,কাহার গ্রাম,দরগা গ্রাম,বাদশা মিয়াগো গ্রাম,কাদির সর্দার গ্রাম ও মালিশাগো গ্রামের মানুষ গুলো পানিবন্ধি আবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পানিবন্ধি এলাকায় সরেজমিনে গিয় দেখা গেছে ভারী বর্ষন ও জোয়ারের পানিতে পানিবন্ধি নিম্নাঞ্চলের মানুষগুলো অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।
এসব এলাকায় নষ্ট হয়েছে কয়েক শত একর বীজতলা,আমন ধানের চারা,আউশ ধান,কাচা তরকারী ও শাক সবজি সহ যাবতীয় রবিশস্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । জোয়ারের পানিতে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামীন কাঁচা সড়ক গুলো সম্পুর্ন নষ্ট হয়েগিয়েছে। গ্রামের কাঁচা সড়ক গুলো দিয়ে যোগাযোগ সম্পুর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বড় বড় খালগুলো অপরিস্কার থাকায় ও খাল গুলো দখল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষন ও অস্বাভাবিক জোয়ারে পানি গুলো গ্রুত আসা যাওয়া করতে না পারায় জলাবদ্রতার সৃষ্টি হয়। জোয়ারের পানিতে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এআই





