ছাত্রলীগ নেতার কোপে গুরুতর আহত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এদিকে নার্গিসের উপর হামলার নৃসংশ ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যসে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
ওইদিনি বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট তামাদ্দি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বদরুলের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক ও সহপাঠিরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
নার্গিসের সহপাঠিরা বলেন, 'ওর লাইফের যদি কোন সিকিউরিটি না থাকে তাহলে আমাদের লাইফের কি সিকিউরিটি আছে। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই অবস্থা হয় তাহলে আমরা কোথায় নিরাপত্তা পাবো।
এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই এখানে থাকবো। আমরা চাই এর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক।
আমরা জেলা প্রশাসকরে নিকট শারক লিপি দেব। আমাদের কর্মসূচি হলো ৬ তারিখে প্রতিবাদ সমাবেশ। আর পরবর্তী কর্মসূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে'।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বিকেলে এসি কলেজ ক্যাম্পাসে নার্গিসকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম (২৪)। আহত অবস্থায় প্রথমে নার্গিসকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচার শেষে গতকাল রাতে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জারির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক রেজাউস সাত্তারের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন।

এদিকে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মীকে স্কয়ার হাসপাতালে ঢুকতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, খাদিজাকে কোপানোর পর তাঁর সহপাঠীসহ স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন। বদরুল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সহসম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল মুন্সি জানান, হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন আটক বদরুল। খাদিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি হামলা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
এমবি





