মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া এলাকার আলোচিত ফাইভ মার্ডার মামলার প্রধান আসামি আইয়ূব আলী চেয়ারম্যানের ফাঁসি কাশিমপুর কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে।
শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমান কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটায় ওই কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। রাত ৪টার দিকে আইয়ূব আলী চেয়ারম্যানের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের পর সকালে তাকে বাঘড়া এলাকার নিজ বাড়িতে দাফন করার কথা রয়েছে।
২০০১ সালের ৭ জুলাই বাঘড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ূব আলীকে হত্যার উদ্দেশে বাঘড়া স্বরুপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন নিকারী বাড়ীতে পরাজিত চেয়ারম্যান মনোয়ার আলী তার স্বশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর সদস্য দুলাল, হাশেম ও বাদশাসহ কয়েকজকে নিয়ে অবস্থান নেয়। সংবাদ পেয়ে আইয়ূব আলীর লোকজন ওই বাড়ী ঘেরাও করলে বাদশার গুলিতে আইয়ূব আলীর ভাতিজা আলাউদ্দিন নিহত হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন পুলিশের উপস্থিতিতে দু'গ্রুপের মধ্যে দিনব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ ২ শতাধিক আহত হয় ও ইসমাইল নামে আইয়ূব আলী গ্রুপের আরেকজন মারা যায়। পরে বিকালে উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় মনোয়ার আলী, বাদশা ও হাশেম আলীকে ছিনিয়ে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর থানার এসআই ইকবাল বাহার বাদী হয়ে ৪ হাজার লোককে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর হলে মামলায় আইয়ূব আলীকে হুকুমের আসামি করা হয়। আদালত ২০০৫ সালে আইয়ূব আলীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় প্রদান করে। আপিল বিভাগ ২০১৩ সালে এ রায় বহাল রেখে রায় প্রদান করেন।
সম্প্রতি আইয়ূব আলী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করে ব্যর্থ হলে মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটায় তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এ মামলায় আইয়ূব আলী চেয়ারম্যানের ছোট ছেলের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে।
রবিন





