জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকার আইএমএফের সংস্কারসংক্রান্ত সুপারিশকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলেও দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-সংক্রান্ত বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইএমএফেরও ইতিবাচক মনোভাব থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই নতুন পে স্কেলের মূল বেতনের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে পরিশোধ করা হবে। তবে বিভিন্ন ভাতা আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে দেওয়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই বিশেষ ভাতার প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল চালুর উদ্যোগ সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। তার মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১৪০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক। অন্যথায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বজায় রাখা এবং প্রশাসনে সততা ও কর্মদক্ষতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে- এমন ধারণার পক্ষে অতীতের অভিজ্ঞতায় তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অষ্টম পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়ও উল্লেখযোগ্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব দেখা যায়নি। তাই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারের বাজেট সক্ষমতা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল বেতনের অর্থ চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকেই পরিশোধ করা হবে, আর সরকারের ওপর এককালীন আর্থিক চাপ কমাতে ভাতার অংশ আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

এস