প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম নগর ও জেলাজুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, গুজব ও নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার জন্যও পুলিশ প্রটোকলসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তিনি নগরের আন্দরকিল্লার জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত অবস্থান করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁদের দাবি-দাওয়া শুনবেন।
পরে সন্ধ্যা ৭টায় কাজীর দেউড়ির পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি।
বিএনপি নেতারা জানান, সভায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী অংশ নেবেন। গত ৮ আগস্টের সভার তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম রাখা হয়েছে।
সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিতে পারেন। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী থেকে সরাসরি সামরিক বিমানে চট্টগ্রামে আসবেন। তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে অবস্থান করবেন। এরপর সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না—এমন বার্তা সভায় গুরুত্ব পেতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে তাঁদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে তিনি নিজ উদ্যোগে দুর্গাপূজায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে আসছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নগরের লালখান বাজার থেকে আন্দরকিল্লা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে সাজসজ্জার কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জামায়াত আমিরের দুটি কর্মসূচি
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সেখান থেকে তিনি নগরের চকবাজারের সাফা অর্কিড কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াত আয়োজিত ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশে যোগ দেবেন। সেখানে আসন্ন নির্বাচনসহ দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরে দুপুর ১২টার মধ্যে জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত আয়োজিত সাবেক সাথী ও সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। দুটি কর্মসূচি শেষে বিকেলে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন সিকদার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সকালে চট্টগ্রামে এসে প্রথমে উত্তর জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে অংশ নেবেন। পরে ঢাকায় ফিরে যাবেন।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সাবেক সাথী ও সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে জামায়াত আমির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ দুটি কর্মসূচির বাইরে তাঁর আর কোনো কর্মসূচি নেই।
এস
















