মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বিক্ষোভ করেছেন। পদত্যাগ চেয়েছেন সচিবের। অপরদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আইয়ুব খান নামের একজন ষাটোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা ঢাকার একটি হোটেলে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।
মৃত্যুর আগে তিনি এক চিঠিতে লিখেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান তাকে বাসা থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন। এই অপমান সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট কমান্ড ঘোষণার জন্য সচিবকে মাছ, শুটকি, টাকা দিয়েছেন বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
তবে বুধবার সচিব এক প্রতিবাদপত্রে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, আইয়ুব খানকে তিনি চেনেনই না।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা পরিবহন পুল ভবনের পঞ্চম তলায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিবের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। সচিব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এর পর বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা ভবনের সভাকক্ষে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন।
কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বক্তব্যে বলেন, ‘প্রকৃত সত্য উদঘাটনে যা যা করার আমরা করবো, আপনাদের সঙ্গে থাকতে হবে। আমরা এর শেষ দেখবো, কাউকে ছাড়বো না।’
এ সময় যুগ্মসচিবের তদন্ত বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধারা, কেউ কেউ সচিবের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অফিসে ছিলেন না।
এক পর্যায়ে সচিবালয়ের নিরাপত্তা শাখা থেকে ১৫-২০ জনের একটি পুলিশ দলও ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর একটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় লিফটের সামনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে দেখা হয়।
এ সময় মন্ত্রী এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী আগামী রবিবার সকাল ১১টায় বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বসবেন বলে কথা দেন।
এমএইচ





