শনিবার (১২ আগস্ট) সকালে “বাংলাদেশের নিরাপদ সার্বভৌমত্ব: প্রয়োজন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ যুব নেতৃত্ব” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষ্যে যুব উন্নয়ন সংসদ ঢাকার উদ্যোগে র‍্যালী পূর্ব সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বর্ণাঢ্য র‍্যালীটি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে পল্টন হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর মোড়ে শেষ হয়।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্ব ডাক্তার মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

আরও বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও ডিইউজের সাবেক সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ঢাকা বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান। যুবনেতা আব্দুস সাত্তার সুমনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা এডভোকেট মাহফুজুল হক, রেজাউল করিম, সোহেল রানা মিঠু প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, যুবকরাই দেশ স্বাধীন করেছে। বিভিন্ন মাদক দিয়ে সরকার দেশের যুবকদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। বর্তমান সরকার গণতন্ত্র হত্যাকারী। আজ দেশে ন্যায় বিচার ভূলুণ্ঠিত, মানুষের ভোটের অধিকার ভূলুণ্ঠিত। দেশের যুব সমাজ জেগে উঠছে এবং এই ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন হবে যুবকদের মাধ্যমে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোয়াজ্জেন হোসেন বলেন, দেশ জাতি আজ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যুবকরাই দেশের সম্পদ কিন্তু আজ মাদক দিয়ে যুবকদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। যুবকদেরকে বেকার করে কর্মহীন করে রাখা হয়েছে। মাদক নির্মূল করতে না পারলে যুবক সমাজকে রক্ষা করা যাবে না। যুবকদের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার জন্য তার কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সমাবেশে বিশিষ্ট জনেরা বলেন, অতীতে তরুণ ও যুবকেরাই জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখে গেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে এ দেশের যুবসমাজের। বাংলাদেশ আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশের যুবকেরা দেশকে রক্ষায় জীবন বাজি রেখেছিল, ঠিক তেমনি আজ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অটুট ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ যুব সমাজকে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে আধিপত্যবাদিদের রুখে দিতে হবে। যুব সমাজ ব্যর্থ হলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ম্লান হয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশ গঠনে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত হতে হবে। তারুণ্যের উদ্দীপনাকে কাজ লাগাতে হবে। একজন সফল মানুষ হতে হলে দক্ষতা অর্জনের সাথে সাথে নৈতিকতার কোনো বিকল্প নেই। যার মধ্যে নৈতিকতা নেই সে প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। আজ আমাদের সামাজিক ও ব্যক্তিজীবনে অনৈতিকতা ও আদর্শহীনতার ছোঁয়া লেগেছে। অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো খাতেও নৈতিকতা চরমভাবে বিপর্যস্ত। এসব দুর্নীতি ও অপকর্ম রোধ করা যাদের দায়িত্ব, তারা নিজেরাও কতটা নৈতিক অবস্থানে আছে, বর্তমানে তা সহজেই অনুমেয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি