বলা চলে এক রকম আদিকাল থেকেই  শীতের পিঠা-পুলি ও পায়েস তৈরিতে খেজুরের রস, গুড় ও পাটালির চাহিদা রয়েছে দেশ জুুড়ে। এটা যেমন ঐতিহ্যবাহী ও তেমনি আর্থিকভাবে লাভজনক। কিন্তু  দেশের বিভিন্ন জেলায়  বিশেষ করে মাগুরা অঞ্চলে বাঙালির এ ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ আশঙ্কাজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।

বছরের নির্দিষ্ট মৌসুমে খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহকারী গাছিরা কেউ কেউ অসুস্থতার কারণে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। আবার কেউ কেউ সুস্থ থাকলেও  তারা এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, আগের চেয়ে খেজুর গাছের সংখ্যা এখন অনেক কমে গেছে। আর খেজুর গাছ কমে যাওয়ার ভয়ানক কারণ হলো ইট-ভাটায় খেজুর গাছের ব্যাপক চাহিদা।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের শমসের গাছি দীর্ঘ ৪০/৪৫ বছর যাবৎ খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেে জীবিকা নির্বাহ করতেন কিন্তু তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ার কারণে গত ২ বছর খেজুর গাছ থেকে আর  রস সংগ্রহ করতে পারেন না।

মাগুরা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা জেলাতে মোট ১৮২ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে। তবে প্রতি বিঘা জমিতে কতগুলো খেজুর গাছ রয়েছে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। মাগুরা কৃষি অধিদপ্তর আরও জানান, বিগত ২০১৩-১৪  সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক লাখ চার হাজার ১০৮টি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার পশ্চিম বাড়িয়ালা গ্রামের গাছি  মো. পিকুল মিয়া জানান,”আমি হাজিপুর, কাশিয়াডাঙ্গা এবং বাড়িয়ালা এ তিন গ্রাম মিলে ৪০টি খেজুর গাছ কেটেছি, যা আমার জন্য খুবই কষ্টকর।”

শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট কাচারি পাড়ার কালাম শেখ জানান, আমি গত দু’বছর হলো খেজুর গাছ কাটা ছেড়ে দিয়েছি। কারণ, এলাকায় খেজুর গাছ নেই বললেই চলে।”

জেলার শ্রীপুর উপজেলার এম ওহাব মার্কেটের  তাসিন কম্পপিউটারের প্রপাইটার এম,এ বাসার জানান, আমার মিসেস নিপা বেগম খেজুর রসের পায়েস রান্না করবে বলে আমি প্রায় ২০ দিন ধরে অনেক চেষ্টা করেও তাকে এক কলসি খেজুরের রস সংগ্রহ করে দিতে পারিনি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এভাবে গাছ কাটার মহড়া চললে আগামীতে আর খেজুর গাছ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সাইফুল্লাহ/এমআর