যুগের বিবর্তনে ও বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতার কারণে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী হতচালিত তাঁতশিল্প ধিরে ধিরে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে এ পেশায় জড়িত পরিবারগুলো অভাবঅনটনে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অতীতে এ জেলার ৬টি উপজেলায় তাঁতশিল্পের তৈরিকৃত শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, চাদরসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশেও বেশ পরিচিত ছিল। এখানে তাঁতপলীর গ্রামগুলোর ভেতর দিয়ে হেঁটে গেলে শোনা যেত তাঁতকলের খট খট শব্দ।

কারিগরদের কণ্ঠে থাকত জারি-সারি-ভাটিয়ালি গান। কিন্তু সে তাঁতপলীর গ্রামগুলো এখননীরব। প্রয়োজনীয় মূলধন, কাঁচামালের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ উপজেলার কয়েক হাজার তাঁত বন্ধ হওয়ার মুখে। বর্তমানে কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হচ্ছে শত শত কারিগর। তাই কারিগররা কাজের অভাবে পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে খুজছেন অন্য পেশা।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, এ জেলার প্রায় ১২৫টি তাঁতী পাড়া রয়েছে। বর্তমানে সুতা ও রংসহ তাঁতশিল্পের কাচামালের উপকরণের দাম বৃদ্ধি, দিনদিন বাজারে তাঁতের কাপড়ের চাহিদা কমে আসায় বিপাকে পড়ে তাঁতীরা।

উৎপাদন বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক। বর্তমানে এখানকার তাঁতি পরিবারগুলো চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে জীবনযাপন করছে।কুমারখালীর যদুবয়রা গ্রামের তাঁতী মনিরুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, কাচামালের দূষ্প্রাপ্প্যতা ও মূল্যবৃদ্ধি সর্বোপরি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হস্তচালিত তাঁতশিল্প আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

আগে ২০ টা তাঁত ছিল এখন মাত্র ৫ টা তাঁত রয়েছে। তাই আমার এখানে কাজ করত তারা আজ বেকার হয়ে কাজের সন্ধানে ঘুরছে।একই গ্রামের তাঁত মালিক তহিদুল রহমান জানান, আগে আমার ৩০ টা তাঁত ছিল এখন ৭ টা আছে। সুতা ও রং এর দাম বেশি ।

এছাড়াও এখন মানুষের দেশী কাপড়ের চাহিদা কম থাকায় নায্য দাম না পাওয়াই মেশিন বন্ধ করে রেখেছি ।খোকসা উপজেলার তাঁতী আলাউদ্দিন (৫৫) জানান, ৫ জন তাঁতী মিলে একটা গ্রুপ তৈরি করে মাসিক কিস্তিতে ২০ হাজার টাকা করে ঋন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল খোকসা পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প। কিন্তু এখন তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁত শিল্প টিকে থাকার জন্য তাঁত বোর্ড ও সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি ।

পলী জীবিকায়ন প্রকল্প বি.আর. ডি.বি এর কুমারখালী উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদেরকে তাঁতীদের ঋণ দিতে বলেছেন। তাঁতীরা ঋণ নিতে চাইলে আমরা দিব।তবে সরকারি ঋণসহায়তার মাধ্যমেও তাদের পুনর্বাসনের আবেদন জানিয়েছেন তাঁতিরা। তাঁতিদের ধারণা, সরকারের সামান্য পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা আবার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা নির্বাহ ছাড়াও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

                                                                                 

এআই