মাগুরায় আসামি ধরার নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা ব্যাপক তল্লাশি ও ভাংচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দুর্বৃত্তের ছোড়া পেট্রলবোমায় মাগুরায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু ও ৭ শ্রমিক দগ্ধের ঘটনায় আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতির বাড়িসহ ১৫টি বাড়িতে পুলিশ তল্লাশির নামে ব্যাপক ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এ সময় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

মাগুরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদের স্ত্রী শামসুন নাহার অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলার পাকাকাঞ্চনপুর গ্রামের বাড়িতে তার স্বামীকে খুঁজতে সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন পুলিশ তল্লাশি চালায়। তাকে না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও কাঁথা-কাপড়ে আগুন দেয়। এ সময় তাকে ও বাড়ির অন্য মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

একইভাবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন খান, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর মাসুদ হাসান খান কিজিলের আবালপুর গ্রামের বাড়িতে পুলিশ ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের কয়েকটি বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব বাড়ির বসত ঘরের মালপত্র চারিদিকে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে খাকতে দেখা গেছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে মূল্যবান আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী সামগ্রী।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার আন্দোলবাড়ী গ্রামে পুলিশ আসবাবপত্র ভাঙচুর ও কাঁথা-কাপড়ে আগুন দিয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সুমি আক্তার অভিযোগ করেন।

এদিকে মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় জানান, বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ জড়িত ছিলনা। এসব অভিযোগ সত্য নয়।

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ৮ টার দিকে মাগুরা-যশোর সড়কের মঘীরঢাল এলাকায় একটি ট্রাকে দুর্বৃত্তরা ট্রাকে দুটি পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে চালকসহ নয়জন ট্রাক শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে রওশন ও মাকিল নামের দুই শ্রমিক মারা যান। বাকি সাতজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্নইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

কেএইচ