১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং ২৬ মার্চের মধ্যে তাদের সনদ প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও এখনো সেই নামের তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি নামের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য যাচাই-বাছাই কমিটি অর্থাৎ উপজেলা কমিটিও গঠন করা হয়নি।
তবে, আশার কথা শুনালেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব শ্যামা পদ দে। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে জানুয়ারিতে উপজেলা কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। রোববার দুপুরে তিনি এ বিষয়টি জানান।
শ্যামা পদ দে বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা তৈরি করতে তৃণমূল পর্যায় থেকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ২০১৫ সালের জানুয়ারিতেই উপজেলা কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি হবে সাত সদস্য বিশিষ্ট।
কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত জোটের আমলে ৪৪ হাজারসহ মন্ত্রণালয়ে ৬০ হাজার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই ৬০ হাজার এবং নতুন আবেদনকৃত ১ লাখ ৩৩ হাজার আবেদনকারীদের নিয়েই মূলত উপজেলা কমিটি কাজ করবে।
যাচাই- বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জামুকার মহাপরিচালক বলেন, উপজেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হবে। কেননা যাচাই- বাছাই শেষে কমিটি যে সুপারিশ করবে তার ভিত্তিতেই সরকার গেজেট প্রকাশ করবে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষা এমনকি ফিল্ড পরীক্ষাও দিতে হতে পারে। সুতরাং মুক্তিযোদ্ধা নাম ধারীদের এবার আর ফাঁক- ফোকর দিয়ে বের হয়ে যাবার কোনো উপায় নেই।
ফিল্ড পরীক্ষার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সত্যি তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্য তার হাতে মুক্তিযুদ্ধ সময় কালীন যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোর যে কোনো একটি অস্ত্র তার হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং তা চালিয়ে দেখাতে হবে। যদি তিনি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন তাহলে তা অবশ্যই পারবেন। আবার কেউ যদি শারীরিকভাবে অক্ষম থাকে তাহলে অস্ত্রটা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং তার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তিনি নিশ্চয়ই অবগত থাকবেন।
শ্যামা পদ দে বলেন, ভারতীয় তালিকা এবং মুক্তিবার্তায় যাদের নাম রয়েছে তাদের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেব গণ্য করার জন্য যাচাই- বাছাই কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।
তিনি বলেন, মুক্তিবার্তা লাল বইয়ে ১লাখ ৫৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম আছে। যদি তাদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ উঠে কমিটি তা খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চূড়ান্ত তালিকায় অর্ন্তভুক্তিতে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিবার্তা লাল বই ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে সংরক্ষিত ভারতীয় তালিকায় নাম থাকতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিস্বাক্ষরিত সনদ দেখে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জামুকার মহাপরিচালক বলেন, আগেই বলেছি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখে। তবে, কারো কাছে যদি তিনটির (মুক্তিবার্তা লাল বই, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে সংরক্ষিত ভারতীয় তালিকা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি স্বাক্ষরিত সনদ) যে কোনো একটিও থাকে তাহলে সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
মন্ত্রীর ঘোষিত সময়ের মধ্যে তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও একটি পবিত্র দায়িত্ব পালন করছি। তালিকায় যাতে কোনো ধরণের ভুল না থাকে অর্থাৎ ‘নির্ভুল তালিকা’ প্রণয়ন -সেটাই বড় বিষয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করছি সুতরাং এখানে সময়টা বড় কথা নয়। তবে যে গতিতে কাজ চলছে আশা করি ২০১৫’র মার্চের মধ্যেই শেষ করতে পারবো।
এক প্রশ্নের জবাবে শ্যামা পদ দে বলেন, কাজটি করার জন্য জামুকা থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্তু টাকা পাইনি।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে বাৎসরিক বাজেটে যে টাকা দেওয়া হয় সেখান থেকে খরচ করতে। এখন আমরা সেটাই করবো।
‘প্রত্যেক উপজেলায় ৪০ হাজার টাকা’ দেওয়া হবে উল্লেখ করে জামুকার মহাপরিচালক বলেন, উপজেলা কমিটির সাত সদস্যকে কিছু সম্মানি দেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় সাত জনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে ৩৫ হাজার এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় খাতা-কলমসহ অন্যান্য কিছু কেনাকাটার জন্য আরো পাঁচ হাজার টাকাসহ মোট ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সূত্র: বাংলানিউজ
জেএ





