ছাদের ওপর, ঘরের জানালায়, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে নারী-শিশুদের হত্যা করা হয়। আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বুকে গুলি লেগে শরীরের একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেকপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গণহত্যা চালানোর পর পুড়িয়ে ফেলা হয় মৃতদেহ। দেওয়া হয় গণকবর। শোকে-ক্ষোভে ফেটে পড়ে সারাদেশ। অবশেষে দম্ভের পতন ঘটে। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনে ক্ষমতা ছেড়ে স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে যান ভারতে। রক্তক্ষোভের দিনগুলোকে স্মরণ করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জুলাইয়ের অংশীজনরা।

২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল। ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে সে বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিলবিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পরে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের রায়ে ২০২৪ সালের ৫ জুন সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন উচ্চ আদালত। ওই দিন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আন্দোলন শুরু হয়। আদালতের ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আবেদনটির শুনানির জন্য ৪ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সে সময় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে পড়ায় ১০ জুন দাবি মানতে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দিয়ে আন্দোলনে বিরতি টানা হয়। আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পরই কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন শুরু হয় চব্বিশের পহেলা জুলাই।

শেখ হাসিনার পতনের প্রেক্ষাপট ॥ এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কলাভবন, মল চত্বর, ভিসি চত্বর ও টিএসসি হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে এদিন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ থেকে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সমাবেশে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। ২ জুলাই গণপদযাত্রা, ৩ ও ৪ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঢাকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে একত্র হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

চব্বিশের ২ জুলাই কোটা সংস্কার করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ৩ জুলাই দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে গণপদযাত্রা শুরু করে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সেখান থেকে চার দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল-

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে (সুবিধা বঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৪ জুলাই সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে সেদিন সকাল থেকেই শাহবাগসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন ৬ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। কর্মসূচি অনুযায়ী ৫ জুলাই তারা অনলাইন ও অফলাইনে জনসংযোগের ঘোষণা দেন। ৬ জুলাই বিকেল ৩টায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ এবং ৭ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেন শিক্ষার্থীরা।

৬ জুলাই শাহবাগ অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। একই দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটাবিরোধী চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিএনপি। ৭ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি সফল করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ৮ জুলাই কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনকে বেগবান করতে ৬৫ সদস্যের সমন্বয় টিম গঠন করা হয়। একই দিনে ঢাকার ১১টি স্থানে অবরোধ, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, ৩টি স্থানে রেলপথ অবরোধ এবং ৬টি মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। ৯ জুলাই হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থী আবেদন করেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পরদিন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১০ জুলাইও সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের একাদশ দিনে এসে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে প্রথমবারের মতো হামলা চালায় পুলিশ। হামলায় দেশের কয়েকটি স্থানে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। একই দিনে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন জানায় ছাত্রদল। ১২ জুলাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

১৩ জুলাই সারাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ এবং ৬৪ জেলায় একযোগে অনলাইন ও অফলাইনে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা হয়। একই দিনে দাবি আদায়ে আন্দোলন পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি ১০ নির্দেশনা দেয় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। ১১ জুলাইয়ের ঘটনায় ১৩ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে পুলিশের যানবাহন ভাঙচুর, হামলা এবং মারধরের অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করে পুলিশ।

১৪ জুলাই গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোটা বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।’ শেখ হাসিনা আরেক প্রশ্নে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে? একই দিনে পদযাত্রা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আন্দোলনকারীরা জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডের কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। সে দিন রাতেই শিক্ষার্থীদের রাজাকারের নাতি-পুতি বলায় চরম ক্ষোভ তৈরি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ এই স্লোগানে প্রকম্পিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশ। সেদিন রাতে জাহাঙ্গীরনগর ও জবিতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনরতদের ওপর হামলা চালায়।

১৫ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর বহিরাগত এনে নারকীয় হামলা চালায় নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। হামলা হয় ইডেন মহিলা কলেজে ও ঢাবির ছাত্রীর ওপরও। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের অস্ত্রধারীরা। এই হামলার প্রতিবাদে পরদিন দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা।

১৬ জুলাই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সময় রংপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রথম হামলা-গুলি চালায় পুলিশ। গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। আবু সাঈদের হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একই দিন চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থীসহ দুজন নিহত হন। ১৬ জুলাই সকল হামলা ও কোটা বাতিলের দাবিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির।

১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিতাড়ন করে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়। সেদিন রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার হাসিনা। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেদিন রাজধানীতে প্রথমবার আগুন দেয় স্থানীয় ছাত্র-জনতা। যাত্রাবাড়ী টোল প্লাজা জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। সেদিন রাতে হঠাৎ করেই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

১৮ জুলাই সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে ছাত্র-জনতা। সেদিন আন্দোলনকারীদের পক্ষে রাজপথে নামার ঘোষণা দেয় হেফাজতে ইসলাম। একই দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনার তদন্ত চেয়ে বার্তা দেয় জাতিসংঘ।

১৯ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক অবরোধের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, গুলি, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাতে সারাদেশে কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় এদিন ৯ দফা ঘোষণা করেন তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। সেদিন বিকেল থেকেই হেলিকপ্টার থেকে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছুড়ে র‌্যাব ও পুলিশ।

২০ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

২১ জুলাই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কোটাপ্রথা হিসেবে মেধাভিত্তিক ৯৩ শতাংশ; মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ; ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

২২ জুলাই কোটাপ্রথা সংস্কার করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তৈরি করা প্রজ্ঞাপন অনুমোদন দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ জুলাই কোটাপ্রথা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

২৬ জুলাই এলাকা ভাগ করে চলে ব্লক রেইড। সারাদেশে অভিযান এবং অন্তত ৫৫৫টি মামলা হয়। নাহিদ ইসলামসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ তিন সমন্বয়ককে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় ডিবি। অপর দুই সমন্বয়ক হলেন আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদার।

২৭ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ আরও দুই সমন্বয়ককে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

২৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবির হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়ক এক ভিডিও বার্তায় সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা বলেন। মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন পর সচল হয়।

২৯ জুলাই গণভবনে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয় ১৪ দলের বৈঠকে।

৩০ জুলাই হত্যার বিচার চেয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মিছিল হয়। ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির পর বৃহস্পতিবারের জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশ।

১ আগস্ট ডিবি হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ককে ছেড়ে দেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

২ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জুমার নামাজের পর ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি পালিত হয় ২৮ জেলায়।

৩ আগস্ট সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে উত্তাল হয় বাংলাদেশ। রাজধানীসহ দেশের ৩৩ জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ।

৪ আগস্ট সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনে সারা দেশে ১৮ জেলায় ব্যাপক সংঘাত হয়।

৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। গণভবন, সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে অসংখ্য মানুষ। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে, আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়।

কর্মসূচি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ থেকে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

১ জুলাই- মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের স্মরণে এদিন দোয়া ও প্রার্থনা।

জুলাই হত্যাযজ্ঞের খুনিদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হবে; যা চলবে ১ আগস্ট পর্যন্ত।

জুলাই শহীদ স্মরণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি চালু হবে।

৫ জুলাই বিভিন্ন সময়ে অবৈধ আওয়ামী সরকারের জুলুম-নির্যাতন প্রচারে দেশব্যাপী পোস্টারিং কর্মসূচি চালু।

৭ জুলাই- Julyforever.org একটি ওয়েবসাইট চালু।

১৪ জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার, একজন শহীদ পরিবারের সাক্ষ্য; যা চলবে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত।

এদিন প্রত্যেক জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন, শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ৬৪টি জেলায় ও দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের ভিডিও প্রদর্শন।

১৫ জুলাই স্মৃতিচারণ, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও জুলাইয়ের গান।

১৯ জুলাই শহীদদের স্মরণে সমাবেশ-১ নরসিংদী, সাভার, ঢাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রদর্শন।

এই দিনটিকে গণহত্যা ও ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে জুলাইয়ের কবিতা পাঠ করবেন কবিগণ।

২৩ জুলাই দূতাবাসগুলোতে জুলাইয়ের কিছু নির্বাচিত ছবি ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

২৪ জুলাই শিশু শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি, দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘২৪-এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন’ প্রতিযোগিতা, নারায়ণগঞ্জে শিশু শহীদ রিয়া গোপের স্মরণে অনুষ্ঠান, শিশু শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান, জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও গান, শিশু একাডেমিতে জুলাইয়ের শিশু শহীদদের থিম করে একটি আইকনিক ভাস্কর্য স্থাপন, শিশুদের জন্য জুলাই আন্দোলনকে উপজীব্য করে গ্রাফিক নভেল প্রকাশ।

এই দিনটি আয়োজন করা হয়েছে শিশু শহীদদের স্মরণে।

২৮ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। জুলাইয়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে অনুষ্ঠান। সারা দেশে রক্তদান ও মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন।

২৯ জুলাই জুলাই অভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক বুদ্ধিবৃত্তিক প্যানেল ডিসকাশন। গাজীপুরে অথবা সাভারে শ্রমিকদের সমাবেশ।

৩০ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের নিয়ে অনুষ্ঠান।

৩১ জুলাই দেশব্যাপী সব কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির স্মরণে অনুষ্ঠান।

৩২ জুলাই (আগস্ট ১) - ‘গণজোয়ার’। ৬৪টি জেলায় জুলাই নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র প্রদর্শন। সব বাংলাদেশি দূতাবাসে জুলাই নিয়ে বানানো নির্বাচিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৩৩ জুলাই (আগস্ট ২) সব জেলার ‘জুলাইয়ের মায়েরা’ শীর্ষক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রজেকশন ম্যাপিং।

৩৪ জুলাই (আগস্ট ৩) শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত শোভাযাত্রা। রিকশায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি অঙ্কন ও রিকশা মিছিল। ৬৪টি জেলায় জুলাই নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৩৫ জুলাই (আগস্ট ৪) সারা দেশে জুলাই যোদ্ধাদের সমাগম, জুলাইয়ের কার্টুনের প্রদর্শনী। ৬৪টি জেলায় ‘স্পটলাইট অন জুলাই হিরোজ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) ৬৪ জেলার কেন্দ্রে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ। শহীদ পরিবারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ, শহীদদের জন্য প্রার্থনা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অভিমুখে বিজয় মিছিল, এয়ার শো। গানের অনুষ্ঠান, ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিন’সহ জুলাইয়ের অন্যান্য ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, ড্রোন শো এবং র‍্যাপের সঙ্গে বিতর্ক।

বিএনপি

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ১ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সব রাজনৈতিক দল ও জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা।

৩ জুলাই দেশব্যাপী (জেলা পর্যায়ে) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি।

৫ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ধানমন্ডি ক্লাব মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট।

৯ জুলাই বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ফারজানা শারমিন ও গুম খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘মায়ের ডাক’র সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলামের তত্ত্বাবধানে সেমিনার হবে।

১১ জুলাই জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১২ জুলাই ছাত্রদলের উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

১৫ জুলাই ঢাবির টিএসসিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘প্রতিরোধে পরাজিত গণশত্রু’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং রংপুর ও চট্টগ্রামে যথাক্রমে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিমের স্মরণে কর্মসূচি পালন করা হবে।

১৮ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে মৌন মিছিল এবং ওলামা দলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

২২ জুলাই মহিলা দলের কর্মসূচি পালিত হবে।

২৩ জুলাই শাহবাগে ‘জুলাইয়ে লাশের সারি’ শীর্ষক প্রতীকী স্মৃতিস্তম্ভ প্রদর্শন এবং দৃক গ্যালারিতে ফ্যাসিস্ট কার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

২৬ জুলাই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘রোড টু জুলাই’ শিরোনামে গ্রাফিতি অঙ্কন ও গণসংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

২৭ জুলাই বিভাগীয় পর্যায়ে গ্রাফিতি অঙ্কন ও গণসংগীত পরিবেশন কর্মসূচি পালিত হবে।

৩১ জুলাই আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালিত হবে।

২ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ‘পালাব না, কোথায় পালাব? শেখ হাসিনা পালায় না’ শীর্ষক পথনাটক এবং উত্তরা, রামপুরা, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

৩ আগস্ট ছাত্রদলের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রসমাবেশের আয়োজন করা হবে।

৪ আগস্ট যুবদলের উদ্যোগে কর্মসূচি নেওয়া হবে।

সর্বশেষ ৬ আগস্ট বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে বিজয় মিছিল করা হবে।

জামায়াত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে টানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির এই কর্মসূচি ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের জন্য দেশব্যাপী শাখায় শাখায় দোয়া অনুষ্ঠান।

২-৪ জুলাই দরিদ্র, অসহায়, দুস্থ ও ইয়াতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ।

৮-১৫ জুলাই জামায়াত নেতারা শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মতবিনিময় ও দোয়া মাহফিল।

১৬ জুলাই রংপুরে ‘শহীদ’ আবু সাঈদ স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

১৯ জুলাই জামায়াত-ঘোষিত সাত দফা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ।

২০-২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ও গণ-প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম।

২৫-২৮ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

২৯-৩০ জুলাই নারী ও ছাত্রীদের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

১ আগস্ট ছাত্রদের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দেশব্যাপী গণমিছিল।

৬-৮ আগস্ট সাংবাদিক-শিক্ষক-চিকিৎসক-আইনজীবী-প্রকৌশলী ও ‘আলেম-ওলামাদের’ উদ্যোগে আলোচনা সভা।

এনসিপি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী দেশজুড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’সহ একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী ৬৪টি জেলায় এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’।

১৬ জুলাইকে ‘বৈষম্যবিরোধী শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

গত বছরের ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ফ্যাসিবাদ-বিরোধী এক দফা ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার একই দিনে শহীদ মিনারে ‘ছাত্র-জনতার জুলাই ঘোষণাপত্র ও ইশতেহার পাঠ’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

নাহিদ জানান, অভ্যুত্থান যেহেতু ছাত্র-জনতা করেছে, তাই ৩ আগস্ট ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়েই এই ঘোষণাপত্র ও ইশতেহার পাঠ করা হবে। সারা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা শুনে তা এই ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নাহিদ ইসলাম জানান, ৫ আগস্টকে ‘ছাত্র-জনতার মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

জুলাই ঐক্য

জুলাইয়ের স্মরণে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে গণভ্যুত্থান থেকে তৈরি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম ‘জুলাই ঐক্য’।

কর্মসূচিতে রয়েছে:

১ জুলাই - মার্চ ফর জুলাই রিভাইভস (প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগে পদযাত্রা)।

১০ জুলাই - প্রতিনিধি সম্মেলন।

১৫ জুলাই - প্রতীকী কফিন মিছিল।

১৬ জুলাই - শহীদদের স্মরণে সারাদেশে দোয়া।

১৭ জুলাই - ২ আগস্ট দেশব্যাপী জুলাই শপথ।

২ আগস্ট - জুলাইয়ের গণশপথ (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে)।

আপ বাংলাদেশ

১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করবে আপ বাংলাদেশ।

এর মধ্যে বিভাগভিত্তিক ৪ জুলাই বরিশাল, ৫ জুলাই রংপুর, ১১ জুলাই চট্টগ্রাম ও ১২ জুলাই সিলেট বিভাগে গণসংযোগ করা হবে।

১৫ জুলাই নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ স্মরণ, ১৬ জুলাই দোয়া ও শহীদদের স্মরণ, ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধ স্মরণ ও খুলনা বিভাগীয় গণসংযোগ, ১৯ জুলাই রাজশাহী বিভাগীয় গণসংযোগ, ২০ জুলাই মেহেনতি মানুষের প্রতিরোধ স্মরণ, ২৫ জুলাই ময়মনসিংহ বিভাগীয় গণসংযোগ, ২৬ জুলাই ঢাকা বিভাগীয় গণসংযোগ, ১ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবিতে বিক্ষোভ, ৩ আগস্ট হাসিনা পতনের এক দফা দাবি স্মরণ এবং ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও নতুন বাংলাদেশ দিবস উদযাপন।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন জুলাই বর্ষপূর্তি উদ্যাপন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

এনএইচ