বুধবার (১৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। সংকট মোকাবিলায় গ্যাস আমদানির পাশাপাশি আমদানি করা গ্যাস ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণ ও স্টেশন স্থাপনে কিছুটা সময় লাগবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বয়লার বা কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
সংকট মোকাবিলায় একাধিক পথে এগোনোর কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস ব্যবহার, গ্যাস আমদানি এবং সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভরতার পাশাপাশি দেশীয় উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। দ্রুত তা তিন মাসে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই মজুত ছয় মাসে উন্নীত করতে চায় সরকার।
জোনায়েদ সাকি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলার বিষয় নয়; ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুতি প্রয়োজন। এ কারণে তেলের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় সেই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।
এস