বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ শহীদ পরিবার ও আহতদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে আন্দোলনের ইতিহাস শেখানোর আগে সমালোচকদের নিজেদের রাজনৈতিক অতীতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, গত ১৭ বছর গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কাজ করেছেন। এ সময় অনেকে রক্ত দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন এবং অনেকে গুম হয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৭টা বছর আমরা এই গণ-অভ্যুত্থানের জন্য অপেক্ষা করেছি। শুধু অপেক্ষা নয়, এর প্রেক্ষাপট তৈরির জন্যও কাজ করেছি। এখনো ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের খবর আমরা পাইনি। কাজেই যারা আজ বিএনপিকে আন্দোলন শেখান, তাদের নিজেদের পায়ের তলার মাটি দেখা দরকার।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বলেন, গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না। ফ্যাসিবাদ উৎখাত ও দেশকে আধিপত্যবাদের হাত থেকে রক্ষায় দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিল বিএনপি।
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দ্রুত আন্দোলনে না গিয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিন-চার-পাঁচ মাসে আলাদিনের চেরাগ দিয়ে সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। পরিবর্তন করতে সময় লাগে।
বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কেউ যেন আবার ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসার সুযোগ না দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে আবদুস সালাম বলেন, একসঙ্গে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছি। এখন ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা যাতে আবার ফিরে না আসে, সে জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সবাই মিলে আসুন, গণতন্ত্র রক্ষা করি। আবার ফ্যাসিবাদ যাতে ফিরে না আসে, সে জন্য ঐক্যবদ্ধ হই।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, পাবনার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, ঢাকা-১৪ আসনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান প্রমুখ।
এমএম