বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এই দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে।

দেশে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় আট শতাংশ হচ্ছেন প্রবীণ। সমাজবিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যে হারে প্রবীণের সংখ্যা বাড়ছে তাতে দেশ অন্যরকম ঝুঁকির মুখে পড়বে। দেশের একটি বড় অংশ হয়ে পড়বে কর্মে অক্ষম।

তাদের মতে, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে শিশুদের চেয়ে প্রবীণদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। আর এজন্য এসব প্রবীণের কথা চিন্তা করে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানান ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। ১৯৭৪ সালে এ দেশের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৮ জন। এ সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে ১৯৮১ সালে এসে দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৩ হাজার ৩৫৩ জনে। পরবর্তী এক দশকে তা আরো বেড়ে ১৯৯১ সালের লোক গণনায় ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ২৩ জনে পৌঁছায়। প্রবীণদের এই সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৫.৪২ শতাংশ ছিল। ২০১১ সালের লোকগণনায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটিতে, যা মোট জনসংখ্যার সাত শতাংশ। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় আট শতাংশ।

১৯৯৫ সালের ৫৪ কোটি বিশ্ব প্রবীণ জনসংখ্যা ২০২৫ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ১২০ কোটি আর ২০৫০ সালে প্রায় ২০০ কোটি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবীণদের সংখ্যা প্রায় ১.৪০ কোটি। ২০২৫, ২০৫০ ও ২০৬১ সালে এদের সংখ্যা বেড়ে হবে যথাক্রমে প্রায় ২ কোটি, ৪.৫ কোটি ও ৫.৫ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে শিশুদের চেয়ে প্রবীণদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী অতি প্রবীণদের বৃদ্ধিহার সবচেয়ে বেশি।

দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘বয়সের সমতার পথে যাত্রা’। প্রবীণ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে সমাজসেবা অধিদফতর বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রবীণ হিতৌষি সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে সমাজসেবা অধিদফতরে গিয়ে শেষ হবে।

আলোচনা সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এএস