প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চোখ থাকতে যারা অন্ধ, দেশকে যারা পিছিয়ে নিতে চায়, তাদের ব্যাপারে দেশবাসী সজাগ থাকবে এবং প্রতিবাদ করবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তির আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মানুষকে পুড়িয়া মারা, হত্যা করা দেশবাসী চায় না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন- দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ হবে মধ্যম আয়ের, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধির দেশে পরিণত হবে বলেও আশা জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে বিভিন্ন সেক্টরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। দেশবাসী সবাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি গিবত করতে চাই না। কারো নামে কিছু বলতেও চাই না। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়ছে। এমন কাজ কোনো মানুষ করতে পারে? এটা জঘন্যতম অপরাধ।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়, তেমনি মনুষ্যসৃষ্ট কিছু দুর্যোগ আছে সেগুলোও মোকাবেলা করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জয়ের কাছে আমি কম্পিউটার ব্যবহার করা শিখেছি। ১৯৯১ সালে একটি কম্পিউটার কিনতে তিন লাখ টাকা লেগেছিল। পরে ক্ষমতায় আসার পর জয়ের পরামর্শে কম্পিউটার ও এর সকল যন্ত্রাংশ থেকে ট্যাক্স তুলে দেই। আমরা এর ফল পাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ১২ কোটি সিম সংযোগ রয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের ১২ কোটি সিম। টেলিফোন ছিল এনালগ। আমরা ক্ষমতায় আসার পর তা ডিজিটাল করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে গেছে। প্রতিটি হাসপাতালে ওয়েবক্যাম বসানো হয়েছে। দেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা, জেলায় ৫২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। ইন্টারনেটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে কোনো স্থানে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারাদেশে ১৭টি আইসিটি মোবাইল ল্যাব রয়েছে। এর সুফলও আমরা পেতে শুরু করেছি। আইসিটির দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের মধ্যে নতুন আরও ১০ লাখ ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ছেলেদের অনেক মেধা আছে। কিন্তু মেধা বিকাশের সুযোগের অভাব আছে। আমরা এ সুযোগ করে দিচ্ছি। এভাবে দেশের ছেলেমেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এ দেশের ছেলেমেয়েরা দেশ-বিদেশে কাজ করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে।’
জেএ





