গ্রীষ্মের তাপদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। গ্রামগঞ্জে একটু ছায়াশীলতা থাকলেও অতিরিক্ত গরমে হাপিত্যেশ শুরু হয়েছে নগরজীবনে। আবহাওয়ার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে গরমের মাত্রা বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে এই তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।
এদিকে গেল প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিরও কোনও দেখা নেই। আকাশে মেঘেরও কোনও আনাগোনাও নেই। প্রচণ্ড উত্তাপ ছড়াচ্ছে সূর্য। তেজ বাড়ছে রোদের। আগামীকাল শুক্রবার থেকে সূর্যের উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল দুপুরে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনায় ছিল সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামীকাল শুক্রবার দেশের ওপর দিয়ে মৃদু দাবদাহ বয়ে যেতে পারে। যা পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরে দেয়া তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার দুপুরে আড়াইটা নাগাদ ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাদারীপুরে- ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
একইসময়ে ময়মনসিংহে ৩৭ দশমিক ২, চট্টগ্রামের রাঙামাটি, কুমিল্লা ও ফেনীতে ৩৮ দশমিক ৪, সিলেটে ৩৮ দশমিক ৩, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৮ দশমিক ৫, রংপুর বিভাগের মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৭ এবং বরিশালে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিন দেশের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা লক্ষ্য করা গেছে খুলনা বিভাগে। যেখানে সাতক্ষীরায় ৩৯, যশোরে ৩৯ দশমিক ৩, চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ দশমিক ৮ ও কুষ্টিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসের উষ্ণ আবহাওয়ায় কালবৈশাখি, বজ্রঝড়ের অনুকূল পরিবেশ থাকে। বিশেষ করে উত্তর-উত্তর পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কালবৈশাখির প্রাবল্য দেখা যায়। এই সময়টাতে যেকোনও সময় বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের আশঙ্কা বাড়ে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল গত পাঁচ দশকের মধ্যে রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠে। ওইদিন ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এসএম





