• চট্টগ্রামে শতাধিক গ্রামের ঈদুল আজহা

চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণ চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান নামাজে ইমামতি করেন। এরপর তারা পশু কোরবানি দেবেন।

চট্টগ্রাম জেলার যে সব গ্রামে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে আনোয়ারার বরুমচড়া, তৈলারদ্বীপ, বারখাইন, খাসখামা, কাটাখালী, রায়পুর, গুজরা, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, ডোংরা, শেখেরখীল, ছনুয়া, পুইছড়ি, সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়ার গাটিয়াডেঙ্গা, আলীনগর, মাদার্শা, খাগরিয়া, মৈশামুড়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, মনেয়াবাদ, চরতি, সুঁইপুরা, হালুয়াঘোনা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি, চরবরমা, কেশুয়া, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, লোহাগাড়ার পুঁটিবিলা, কলাউজান, চুনতী এবং সীতাকুন্ডের মাহমুদাবাদ, বারিয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, মহালংকা, ফেনী, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, ঢাকা, মুহাম্মদপুর, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মনোহরদী, মঠখোলা, বেলাব, আব্দুল্লাহনগর, কাপাসিয়া, চাঁদপুর জেলার মতলব, সিলেট, হবিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, মিরশরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, রাউজান ও ফটিকছড়ির কয়েকটি গ্রামসহ পাশের জেলা মিলিয়ে শতাধিক গ্রাম।

এদিকে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অনেক গ্রামে থাকা মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরাও বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন।

  • বরিশালের কয়েকটি গ্রামে ঈদ উদযাপন

বরিশালের ছয়টি উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে আজ ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বরিশালের ছয়টি উপজেলার ৭ হাজারের অধিক মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেন।

সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি, বন্দর থানা সাহেবের হাটে দুটি, বাবুগঞ্জ উপজেলায় চারটি, হিজলায় দুটি, মেহেন্দিগঞ্জে দুটি, বাকেরগঞ্জে একটি স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের জামাত শেষে দেশের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন।

  • দিনাজপুরের ঈদুল আজহা উদযাপন

দিনাজপুরের সদর, চিরির বন্দর, বিরল, কাহারোল, বিরামপুর উপজেলাসহ বেশ কিছু এলাকায় ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন তারা।

সকাল পৌনে ৮টায় শহরের চারুবাবুর মোড় পার্টি সেন্টারে দুই শতাধিক মুসল্লি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। এতে ইমামতি করেন চিরির বন্দর রাবারড্রাম জামে মসজিদের খতিব আবু বকর সিদ্দিক।

এ ছাড়াও দিনাজপুর চিরির বন্দর উপজেলার সাইতাড়া, বিরল উপজেলার কান্দেবপুর ও কাজিপাড়া, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ ও গড়েয়া এবং বিরামপুর উপজেলায় দুটি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলায় ১৩টি উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন।

  • চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদুল আজহা পালিত

চাঁদপুরের পাঁচ উপজেলার অর্ধশত গ্রামে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ আজহা। তবে সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় নামাজ আদায় বিঘ্নিত হয়েছে।

সকাল সোয়া ৮টায় হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের সাদ্রা দরবার শরিফে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী মাদানী।

সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে পাশাপাশি সাদ্রা গ্রামের সাদ্রা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মাওলানা আরিফ উল্লাহ। নামাজ শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি দেওয়া হয়।

এ ছাড়াও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাপপুর, বাসারা। ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুরে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

অন্যদিকে মতলব উত্তর উপজেলার সাড়ে পাঁচানি, দেওয়ান-কান্দি পাঁচানি, সাতানী, লতুরদী, মোহাম্মদপুর, মোহনপুর, এখলাশপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে আজ ঈদ উদযাপন করছেন মুসল্লিরা।

মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী মাদানী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে তার বাবা সাদ্রা গ্রামের পীর মাওলানা ইসহাক বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এই রীতি চালু করেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এই রীতি পালন করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গ্রামের অনেক মুসল্লি একদিন আগে ঈদ পালন শুরু করেন। তবে এসব গ্রামের অনেকে এখনও দেশের সরকারি নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন।

  • পটুয়াখালীতে ২১ গ্রামে ঈদ উদযাপিত

পটুয়াখালীতে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ২১ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ উদযাপন করছেন, মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা।

আজ সকাল সাড়ে ৭টায় কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশান-বাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়াও জেলার সদর উপজেলার চার গ্রামে, কলাপাড়ার সাত গ্রামে, রাঙ্গাবালির দুই গ্রামে, গলাচিপার তিন গ্রামে, দুমকির দুই গ্রাম ও বাউফল উপজেলার তিন গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়ভাবে তারা চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও চানটুপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১০০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন তারা।

  • জামালপুরের ১৬ গ্রামে ঈদুল আজহা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ১৬টি গ্রামের দুই শতাধিক মুসল্লি ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি সংলগ্ন জামে মসজিদ মাঠে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বলারদিয়ার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আজিম উদ্দিন।

ইমাম আজিম উদ্দিন জানান, প্রতিবছরই মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে তারা ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে থাকেন। পৌরসভার বলারদিয়ার, মূলবাড়ি, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসি, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড় ও বগারপাড় গ্রামের লোকজন এই নামাজে অংশ নেন।

তিনি বলেন, এই নামাজ নিয়ে অনেকের মাঝে মতপার্থক্য থাকলেও কোরআন-হাদিসের সঠিক নির্দেশনা মোতাবেক সালাত আদায় করা হয়েছে এবং সঙ্গে কোরবানিও করা হবে।

উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মাদ নাজমুল হুদা ফয়জী বলেন, যারা কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস মানে না তারাই এসব বিভ্রান্তিকর কাজ করে চলেছেন।

এনএইচ