বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর পর সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে প্রতিক্রিয়া জানায়।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি প্রতিবেদনে লেখেন, “ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ”। তিনি ২০১৭ সালের ওই সংস্থার একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করেন, যেখানে বাংলাদেশে গোপনে আটক ও গুমের ঘটনা নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। 당시 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রতিবেদনটিকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বেশির ভাগ নিখোঁজ ব্যক্তিকে অপরাধী বা প্রতারক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, তৎকালীন সরকার তদন্তের আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার সাধারণত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে তিন সপ্তাহের টানা আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন এবং সরকারের পতন ঘটে। পরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেন। গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনে ১,৮৫০টিরও বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, তিন শতাধিক ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।
কমিশন সম্প্রতি ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ আমলের এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি জানান, অভিযোগ ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সেই পরিবারের সদস্যরা, যাদের ঘটনা সংস্থাটি নথিভুক্ত করেছিল। তাদের মধ্যে একজন মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)। ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি মীনাক্ষীকে চিঠি লিখেছিলেন। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন আটককেন্দ্রে আট বছর আটকে থাকার পর তিনি হাসিনার সরকার পতনের পর মুক্তি পান।
মীনাক্ষী আরও বলেন, “এই দীর্ঘ বছরগুলোতে তার পরিবার বারবার যোগাযোগ করতেন। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পেছনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের করুণ চিত্র নিহিত। বর্তমানে আরমান সুস্থ আছেন এবং একটি বইও লিখেছেন।”
অভিযুক্তদের বিচার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে, তবে সুষ্ঠু বিচারের মানদণ্ড নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে।
এনএইচ