স্কুলের বকেয়া বেতনের টাকা দিতে না পারায় বকা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া এবং বাসায় এসে মায়ের কাছে বেতনের টাকা চেয়ে মায়ের বকা সহ্য করতে না পেরে সাভারে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সাভার পৌর এলাকার আড়াপাড়া মহল্লায় মৃত খালেক চেয়ারম্যানের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আত্মাহুতি দেওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম সোনালী আক্তার সনিয়া (১৬)। সে সাভারের বনপুকুর এলাকার চাইল্ড হেভেন স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানার হরিপুর-দুতরাবাড়ি এলাকার আকর আলীর মেয়ে। সনিয়ার মা ফুলতাঁরা ওই বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। স্বামীর সঙ্গে ফুলতাঁরার সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানায়।
সনিয়ার মা ফুলতাঁরা জানান, সাভার পৌর এলাকার বনপুকুর মহল্লার চাইল্ড হেভেন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সনিয়া। আজ শনিবার সনিয়ার স্কুলে পরীক্ষা ছিল। স্কুলের বকেয়া বেতনের টাকা দিতে না পারায় তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের শিক্ষকরা বকা দিয়ে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়।
পরে সে বাসায় এসে তাঁর (মা) কাছে বকেয়া বেতন প্রদান করার জন্য টাকা চাইলে তিনিও টাকা দিতে পারেননি। এরপর তিনি মেয়েকে বাসায় রেখে বাজারে চলে যান। বাজার থেকে ফিরে এসে তিনি সনিয়াকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন। পরে প্রতিবেশীরা সনিয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখে সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান বলেন, স্কুলে বেতন না দিতে পারলে সব স্কুলেই বেতন প্রদান করার জন্য চাপ দেয়। শুধু স্কুলর চাপের কারণে মেয়েটি আত্মহত্যা করেনি।
স্কুলের চাপের কারণে মেয়েটি বাসায় এসে মায়ের কাছে বেতনের টাকা চাইলে তার মাও তাকে বকা-ঝকা করেন। স্কুলের চাপ এবং মায়ের বকা সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে চাইল্ড হেভেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. কাবুল মিয়া স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়েছেন। তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তাকে মোবাইলে ফোন করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এআই





