এবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাতটি রাজনৈতিক দলের সাতজনসহ নয়জন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক মহানগর আমির মাহাবুবার রহমান বেলাল তফসিল ঘোষণার আগ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর পর মনোনয়নপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে যান।

বর্তমানে মেয়র পদে জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম খোকন, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেহেদী হাসান বনি ও লতিফুর রহমান মিলন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটাররা বলছেন, ভোটযুদ্ধের প্রচারণা, গণসংযোগ ও পথসভা করা ছাড়াও জনপ্রিয়তা অর্জনে এগিয়ে আছেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। আর সমানতালে প্রচারণা চালিয়েছেন সরকারদলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কৃত নেতা ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন। ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তবে নয় মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় থাকা মোস্তফা-ডালিয়া-মিলনের ভোটের ব্যবধানের হিসাব কত হবে, তা নিয়েও হিসাব চলছে অন্দরমহলে।

জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী, তার কর্মী-সমর্থক ও দলীয় নেতারা বলছেন, ২০১৭ সালের নির্বাচনের মতোই এবারো বিপুল ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো লাঙ্গল প্রতীকে ভোট বিপ্লব হবে। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার দলের নেতাদের দাবি, উন্নয়নের স্বার্থেই এবার নগরবাসী নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিজয় উপহার দিবেন।

এদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া মনোনয়নপ্রাপ্তির মতো এবার ভোটেও চমক দেখাতে পারেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, রংপুরের পুত্রবধূ শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন এবং সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার পরিচিতিও লাঙ্গলের ঘাঁটিতে নৌকার বিজয় আনতে পারে। তবে চূড়ান্ত বিজয়ী হবেন কে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, এবার মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৮৩ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৮ জনসহ সর্বমোট ২৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে একজন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ২২৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ৩৪৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দুই হাজার ৬৯৮ জন পোলিং অফিসার থাকবেন। ভোটার সংখ্যা চার লাখ ২৬ হাজার ৪৭০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার দুই লাখ ১৪ হাজার ১৬৬ জন, পুরুষ দুই লাখ ১২ হাজার ৩০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।

এমআই