যশোরে কর্মরত অবস্থায় ‘ক্রসফায়ার’র ভয় দেখিয়ে উৎকোচ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার বিশ্বাসসহ দুই পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার জামিন শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মিজানুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসআই উত্তম কুমার খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় এবং অপর পুলিশ কনস্টেবল ইদ্রিস আলী যশোরের মণিরামপুর থানায় কর্মরত।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে যশোর সদরের সাজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এসআই উত্তম কুমার বিশ্বাস। ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় বাজারে অভিযান চালান তিনি। আতঙ্কে দোগাছিয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম দৌড় দিলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি হাতে বিদ্ধ হলে মাটিতে পড়ে যান রবিউল।

এর পর তাকে আটক করে সাজিয়ালি ক্যাম্পে নিয়ে যান এসআই উত্তম। সেখানে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। টাকা না দেওয়ায় তাকে একটি পেন্ডিং মামলায় চালান দেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি রবিউল ইসলামের ভাই রেজাউল ইসলাম স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেন। বিচারক মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর এসআই উত্তমসহ আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পলাতক থাকায় ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এসআই উত্তম এবং কনস্টেবল ইদ্রিস আলীর (নম্বর ৪৭০) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গত ৮ মে তারা আদালতে হাজির হয়ে অস্থায়ী জামিন নেন।
মঙ্গলবার স্থায়ী জামিনের জন্য তারা আদালতে হাজির হন। এ সময় তাদের আইনজীবী দেবাশীষ দাস বেলবন্ড প্রত্যাহার করে নেন। এর পর বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে খুলনার বটিয়াঘাটা থানার ওসি মনিরুজ্জামান বেল্টু বলেন, ‘এসআই উত্তম ছুটি নিয়ে গেছেন। তবে তিনি আটক হয়েছেন কিনা সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

মণিরামপুর থানার ওসি মোল্যা খবির আহম্মেদ বলেন, ‘ইদ্রিস আলী ছুটিতে আছেন।’

এসআই উত্তম কুমারের নিযুক্ত আইনজীবী দেবাশীষ দাস জানান, আসামিদের আচরণ ভাল না হওয়ায় তিনি বেলবন্ড প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এএইচ