রেলকে স্বনির্ভর করতে ভাড়া বৃদ্ধি নয় বরং পণ্য পরিবহন ও সুষ্ঠু সম্পদ ব্যবস্থাপনার আহবান জানানো হয়েছে। পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন (পবা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট সম্প্রতি পবা কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানিয়েছে।
এসময় তারা বলেন, রেল একটি সেবামূলক নিরাপদ ও গণ পরিবহন মাধ্যম হলেও যাত্রী সেবারমান বৃদ্ধি না করে ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে রেলকে যাত্রীবিমুখী ও একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রচেষ্টা চলছে। এটা বন্ধ করতে হবে। রেল ভাড়া বৃদ্ধি না করে ভূ-সম্পত্তিসহ সকল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পণ্য পরিবহনে মনোযোগী হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি শুধু যাত্রী ও মালামাল পরিবহনই নয় বরং পরিবেশ দূষণরোধ, যাতায়াত নিরাপত্তা, স্বল্প খরচে মালামাল পরিবহন, ভূমির পরিমিত ব্যবহার, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক পরিবহন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, বিকেন্দ্রীকরণসহ সর্বপরি নগরের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগের সেতুবন্ধনে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্ট এর সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্ট এর ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার মারুফ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবু নাসের খান, চেয়ারম্যান, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সাবেক রাজনীতিবীদ, প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সেক্রেটারি, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), তোফায়েল আহমেদ, সম্পাদক,
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নাজনীন কবির, সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্ট, আবুল হাসনাত, মর্ডাণ ক্লাব, মনজুর হাসান দিলু, সম্পাদক, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), পদ্মাবতী দেবী, আইন ও সালিশ কেন্দ্র প্রমুখ। কমলাপুর রেলওয়ে ভবনের ভূমি অফিসে আগুন
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্ট এর সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান তার প্রবন্ধে বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের লাভক্ষতির মানদণ্ড হিসেবে শুধু অর্থকে বিবেচনা না করে রেল জনগণকে কি পরিমান সেবা প্রদান করতে পারছে তাই রেলের লাভক্ষতির মানদণ্ড হওয়া উচত।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে পরিবহন ব্যবস্থায় রেলকে অগ্রাধিকার প্রদান করছে। বিশ্বের প্রায় ২৩টি দেশ আমাদের চেয়ে কম ভাড়া নিয়ে রেলকে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ৫৩টি দেশ আমাদের চেয়ে কম ভাড়া নিয়ে ভর্তুকি দিয়ে রেল পরিচানা করছে।
অথচ আমাদের দেশে বছরের পর বছর অবহেলা, গাফিলতি আর অব্যবস্থাপনার কারনে রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ন পরিবহন খাত থেকে সুফল লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভাড়া বৃদ্ধি না করে রেলের ভূসম্পত্তির সুষ্ঠ ব্যবহার, পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট রেলের পাওনা টাকা উদ্ধার এবং রেলের কিছু খাতের ব্যয় কমানো সম্ভব হলে কিভাবে রেলকে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব এ বিষয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
এআর





