বহুল আলোচিত শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যার ৪২ দিনের মাথায় ওই এলাকায় আরেক শিশুকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত ২০ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঘোপালস্থ ফুড মার্ক ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির সংলগ্ন শৌচাগারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু শ্রমিকের নাম মোঃ আকমল হোসেন (১১)। সে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার পাহাড়পুর (পূর্ব রাজনপুর) গ্রামের দিনমজুর মোঃ এখলাছ মিয়ার পুত্র।

এ ঘটনায় এখলাছ মিয়া বাদি হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামি করে এসএমপির জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছে- শহরতলীর টুকেরবাজার ঘোপাল এলাকার লন্ডনী বাড়ি ও ফুড মার্ক ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির মালিক মোঃ ওহাব আলী (৫৫) ও গোলাপগঞ্জ থানার ফুলসাঈন গ্রামের মৃত হাসিবের পুত্র বর্তমানে ঘোপাল ফুড মার্ক ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির মিস্ত্রি আব্দুর রহমান (৪০)।

কিন্তু দুদিনেও ওই ফ্যাক্টরির মালিক ও মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে মামলাটির তদন্ত চলছে।

গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে আকমল হোসেনের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে। একই দিন মাগরিবের পর নামাজের পর জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত আকমল চার ভাই ও দুই বোন। ভাইদের মধ্যে আকমল তৃতীয়।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, জীবিকা নির্বাহের জন্য জালালাবাদ থানা এলাকার ঘোপালস্থ ফুড মার্ক ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে শিশু আকমল হোসেন দুই বছর ধরে ১৩শ’ টাকা বেতনে চাকরি করে আসছিল।

ঘটনার ৫/৬ দিন পূর্বে ফ্যাক্টরির মালিক মোঃ ওহাব আলী ও মিস্ত্রি আব্দুর রহমানের কাছে আকমলের পিতা এখলাছ মিয়া বকেয়া বেতনের টাকা চাইতে গেলে কথাকাটাকাটি হয়। এর পর থেকে ওহাব আলী ও আব্দুর রহমান শিশু আকমলকে নির্যাতন করে আসছিল।

গত ২০ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ওহাব আলী ও আব্দুর রহমান ফ্যাক্টরির শৌচাগারে নিয়ে আকমলকে দেয়ালের সাথে সেট করে ব্যাপক মারধর করে। ইটের টুকরা দিয়ে তার মাথা তেঁতলে দেয়। এতে আকমলের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় তারা। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গের হিমাগারে রেখে দেয়।

এদিকে ওইদিন রাত সোয়া ৮টার দিকে ছেলের খবর পেয়ে নিহত আকমলের পিতা ওসমানী হাসপাতালে ছুটে গিয়ে আকমলের মাথা তেঁতলানো, মুখমণ্ডলের ডান পাশ ফুলা এবং কান ও নাক দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে দেখতে পান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেনু চন্দ্র দেব জানান, মামলাটির আসল রহস্য উদঘানের জন্য তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের তৎপর রয়েছে পুলিশ।

এসএইচ