মাত্র চারটি থানা নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) যাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৯৯২ সালে। ওই সময় মহানগরীর জনসংখ্যা ছিলো তিন লাখ। বর্তমানে তিলোত্তমা এ মহানগরীর লোকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আট লাখ। কিন্তু ২৬ বছরে থানার সংখ্যা বাড়েনি একটিও।

তবে এ সময়ে থানা এলাকায় আবাসন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা বেড়েছে ঠিকই। মেট্রোপলিটন পুলিশের এ চার থানার অধীনে এসেছে দুর্গম পদ্মার চরও। এ অবস্থায় চরাঞ্চল ও থানার দূরবর্তী গ্রামগুলো পুলিশি সেবা পাচ্ছে না। এতে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর। তাই দুই বছর আগে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো থানা বাড়ানোর। যা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এবছর। 

রাজশাহী মহানগরীর নতুন আরও আটটি থানার প্রস্তাবের ফাইলটি গত বছর জুড়েই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরপাক খায়। এরপর আরএমপির দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল এ নতুন আটটি থানা করার সিদ্ধান্ত গত বছরের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। এখন শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা। চলতি বছরের যেকোনো সময় এ প্রজ্ঞাপন জারির গুঞ্জন রয়েছে।

এরপরই কার্যক্রম শুরু হবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আরও নতুন আট থানার কার্যক্রম। আরএমপির পুলিশ কর্মকর্তাদের আশা, প্রস্তাবিত নতুন থানাগুলোর কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে।

আরএমপি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আরএমপির চার থানা এলাকার আয়তন ২০৩ বর্গকিলোমিটার। নতুন আরও আট থানার কার্যক্রম শুরু হলে আরএমপির এলাকার পরিধি হবে প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার। ফলে শহর ছেড়ে গ্রামেও পৌঁছাবে মেট্রোপলিটন পুলিশের এলাকা। তবে নতুন থানা হলেও মহানগরীর ভেতরে থাকা মোট ১২টি পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম আগের নিয়মেই চলবে।

জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, সুদীর্ঘ পরিকল্পনার পর নতুন আটটি থানা করার সিদ্ধান্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় সম্প্রতি অনুমোদন হয়েছে।

এখন শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা। চলতি বছরের যেকোনো সময় সরকারি এ আদেশ জারির কথা রয়েছে। জারি হলেই বর্তমান চারটির থানার সঙ্গে আরও নতুন আটটি থানা যোগ হবে আরএমপিতে। বাড়বে জনবলও।

এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, আরএমপির এখনকার চার থানার মতোই ভাড়া করা ভবনেই নতুন আট থানা চলবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভবন দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ভবন পছন্দও করা হয়েছে। শিগগির এগুলোতে থানার কার্যক্রম শুরু হবে।

আরএমপির এ মুখপাত্র জানান, প্রস্তাবিত নতুন আট থানার কার্যক্রম শুরু করার জন্য এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরএমপিতে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন। কার্যক্রম শুরু হলে এখান থেকেই নতুন থানাগুলোতে জনবল সরবরাহ করা হবে। এজন্য গত কয়েক মাসে আরএমপি থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যকে অন্য কোথাও বদলিও করা হয়নি। এছাড়া পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তারাও এখন নতুন থানায় যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী- মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা এলাকা ভেঙে হচ্ছে চন্দ্রিমা থানা। পশ্চিমে থাকা রাজপাড়া থেকে এলাকা ভেঙে হচ্ছে কাশিয়াডাঙ্গা থানা। আর মতিহার থানা থেকে কাটাখালি ও বেলপুকুর এবং শাহ মখদুম থানা থেকে হচ্ছে বিমানবন্দর থানা।

এছাড়া রাজশাহী জেলা পুলিশের সবচেয়ে বড় এলাকায় থাকা পবা থানা আসছে আরএমপিতে। কেবল তাই নয়, বিশাল

এই থানা এলাকা থেকে ভেঙে করা হচ্ছে কর্ণহার ও দামকুড়া থানা। আর পবা উপজেলার পুরনো ও নতুন এ দু’টি থানা যুক্ত হচ্ছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরে। একইভাবে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর থানাও থাকবে মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী এখন মেগা সিটি। দীর্ঘ ২৬ বছরে এখানকার আবাসন ও জনসংখ্যা দু’টোই বেড়েছে। কিন্তু মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিধি বাড়েনি। এতে চারটি থানা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন পুলিশি কার্যক্রমে খুব সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্লক রেইড ও জঙ্গি কার্যক্রমে যে পুলিশি অ্যাকশন বা তল্লাশি চলে তাতে’।

এজন্য নতুন আটটি থানার কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। নতুন থানা বাস্তবায়িত হলে পুলিশি সেবার মান ও পরিধি বাড়বে। এছাড়া মেট্রাপলিটন এলাকার বৃহত্তর জনগণ পুলিশি সেবা পাবেন বলেও মনে করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।

এসএম