বিপিএসসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও টেলিটকের ওয়েবসাইটে এসব নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো ধরনের তদবির করা হলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। আর আবেদন ফি ধরা হয়েছে ২০৫ টাকা।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফরম খুলতে হবে। প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এবার এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল, নিবন্ধন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড ও পাসের বছর দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের তথ্যভান্ডারে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রার্থীর নাম, বাবা ও মায়ের নামসহ অন্যান্য তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরমে যুক্ত হবে। এসব তথ্য পরে পরিবর্তন করা যাবে না।
অনলাইন আবেদন ফরমটি তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে — ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ক্যাডার পছন্দ। ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে জন্মতারিখ, লিঙ্গ, চাকরির বর্তমান অবস্থা, কোটা, বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয়তা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট নম্বর এবং উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ দিতে হবে। প্রার্থীর জাতীয়তা অবশ্যই বাংলাদেশি হতে হবে।
নির্দেশিকায় শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মাপ উল্লেখ করা হয়েছে। পুরুষ প্রার্থীদের সর্বনিম্ন উচ্চতা ১৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪৮ দশমিক ৯৯ কেজি হতে হবে। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন উচ্চতা ১৪৭ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪০ দশমিক ৮২ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশে এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। ৫১তম বিশেষ বিসিএসটি স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য হওয়ায় এতে দুটি পদে আবেদন করা যাবে। পদ দুটি হলো—বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন, ক্যাডার কোড ৪১০ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন, ক্যাডার কোড ৪৫০। প্রার্থীদের এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রির বিষয় ও কোড অনুযায়ী তথ্য পূরণ করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় জিপিএ ও বিভাগ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ফরমের সব অংশ পূরণ করার পর প্রার্থী আবেদনপত্রের খসড়া বা ‘অ্যাপ্লিকেশন প্রিভিউ’ দেখতে পারবেন। এ পর্যায়ে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। তবে আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না।
সব তথ্য চূড়ান্ত করার পর নির্দিষ্ট যাচাই কোড দিয়ে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির মাপ হতে হবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল এবং ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট। ছবিটি রঙিন ও তিন মাসের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। স্বাক্ষরের মাপ হতে হবে ৩০০×৮০ পিক্সেল এবং ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট।
আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার পর প্রার্থী ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনকারীর কপি পাবেন। এতে একটি ব্যবহারকারী পরিচিতি নম্বর বা ইউজার আইডি থাকবে। এই কপিটি প্রিন্ট করে অথবা সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
আবেদন ফি দিতে টেলিটকের প্রিপেইড সিম থেকে নির্ধারিত নিয়মে দুটি খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠাতে হবে। সাধারণ প্রার্থীদের আবেদন ফি ২০০ টাকা। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য যাচাইয়ের চার্জ ও মূল্য সংযোজন করসহ মোট ২০৫ টাকা জমা দিতে হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের আবেদন ফি ৫০ টাকা। যাচাইয়ের চার্জসহ তাদের মোট ৫৫ টাকা দিতে হবে।
ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সফল হলে প্রার্থী একটি পাসওয়ার্ড পাবেন। এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে খুদে বার্তার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে টেলিটক নম্বর থেকে ১২১-এ কল করে প্রথমে ৮ এবং পরে ১ চাপলে হেল্পলাইনের সরাসরি সহায়তা নেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে পিএসসি।
এমএম











