মালয়েশিয়া যাত্রা করতে গিয়ে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মিয়ানমার উপকূলে উদ্ধার হওয়া ২০৮ অভিবাসীর মধ্যে ১৫০ জনকে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। সোমবার ফেরত আনা এই অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের অন্তত ১৭ জেলার বাসিন্দা রয়েছেন।
সোমবার দুপুরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঢেকুবনিয়া এলাকায় বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিনিধিদলের সাথে মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগের এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই অভিবাসীদের হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর হওয়া অভিবাসীদের প্রথম দলটি সোমবার বেলা দেড়টার দিকে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের লালব্রিজের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বিকাল ৩টার দিকে ১৫০ জনের পুরো দলটিকে বাংলাদেশ সীমান্তে পার করে আনে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ফিরিয়ে আনা অভিবাসীদের মধ্যে কক্সবাজারের কয়েকটি উপজেলার ৩৪ জন, সিরাজগঞ্জ জেলার ৫০ জন এবং দেশের অন্য ১৫ জেলার ৭২ জন রয়েছেন।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে বিজিবির ১০ সদস্যের একটি দল মিয়ানমারে যান। সেখানে ঢেকুবনিয়া এলাকায় সকাল ১১টার দিকে বিজিবি ও মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। বেলা ১২টার দিকে বৈঠক শেষে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিজিবি প্রতিনিধিদলের হাতে তুলে দেয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির কক্সবাজার ১৭ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল আলম। অন্যদিকে মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মংডু ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক সো নাইং।
বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ও মিয়ানমারের ত্রাণ ও পূণর্বাসন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক মং টো।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, ফিরিয়ে আনা অভিবাসীদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। কক্সবাজারে নেয়ার পর তাদের আরেকবার পরিচয় নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিকটাত্মীয়দের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
তবে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, ফেরত আসা অভিবাসীদের মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন আদালত। পরে এই অভিবাসীদের নিজ নিজ বাড়ি ঘরে ফেরত পাঠানো হবে বলেও নিশ্চিত করেন উখিয়া থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমার নৌবাহিনী গত ২১ মে তাদের পানিসীমায় ২০৮ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ১৫০ জনকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সনাক্ত করা হয়। পরে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে মিয়ানমার দাবি করে আসছিল, ২০৮ জনের মধ্যে ২০০ জনই বাংলাদেশি অভিবাসী।
এদিকে গত ২৯ মে মিয়ানমার নৌবাহিনী আরো ৭২৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যেও বাংলাদেশি রয়েছে বলে দাবি করছে মিয়ানমার। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।
এমআর





