শ্রমিকদের প্রত্যেকের স্ব স্ব একাউন্টে টাকা প্রবেশ করা।আর দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষনা দেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব জুটমিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন ।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে মিল ধর্মঘটের পাশাপাশি লাগাতার রাজপথ-রেলপথ অবরোধ শুরু করেছেন ৭ রাষ্ট্রায়ত্ব মিলের শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘটের অষ্টম দিন এবং দ্বিতীয় দফায় ডাকা লাগাতার রাজপথ ও রেলপথ অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়কের তিনটি স্পটে অবস্থান নিয়েছেন।

মহানগরীর খালিশপুরস্থ নতুন রাস্তা মোড়, আটরা গিলাতলা ও যশোর অভয়নগরের রাজঘাট শিল্প এলাকার সাতটি জুট মিলের শ্রমিকরা এ অবস্থান নেন। তবে আগের দিনের তুলনায় শ্রমিকদের উপস্থিতি কম। প্রতিদিন ভোর ৬টায় অবরোধ শুরু হলেও মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে তাদের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অবরোধের ফলে বন্ধ রয়েছে এসব সড়কে যান চলাচল ও রেল যোগাযোগ।

নতুন রাস্তার মোড়ে আন্দোলনে অবস্থানরত প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম জিয়া বলেন, বকেয়ার টাকা হাতে না পাওয়ায় পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব জুটমিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম জমাদ্দার বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় পাট মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। এজন্য আমরা সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। সেখানে ফলপ্রসূ আলোচনা এবং দাবি আদায় হলেই কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত যথারীতি সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পহেলা বৈশাখের মধ্যে পরিশোধের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ৩০০ কোটি টাকাসহ সর্বমোট এক হাজার কোটি টাকা পাট মন্ত্রণালয়কে দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার  মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। পহেলা বৈশাখের আগে যে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে খুলনার ৭ পাটকলের শ্রমিকরা পাচ্ছেন ৪০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় আশায় বুক বাধছেন সাধারণ শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব জুটমিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন জানান, খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৭টি জুট মিলের ১৬ হাজার ৩শ’ শ্রমিকের প্রায় ৪০ কোটি টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। মিলগুলো হচ্ছে-খালিশপুরের প্লাটিনামে ৪ হাজার শ্রমিকের ১০ সপ্তাহ, ক্রিসেন্টে ৪৮শ’ শ্রমিকের ৯ সপ্তাহ, দিঘলিয়ার স্টারে ২৬শ’ শ্রমিকের ৮ সপ্তাহ, আটরা শিল্প এলাকার আলীমে ১৫শ’ শ্রমিকের ৩৮ সপ্তাহ, স্টারে ১৪শ’ শ্রমিকের ৫ সপ্তাহ, নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই’র ১৪শ’ শ্রমিকের ৫ সপ্তাহ ও কার্পেটিং জুট মিলের ৬শ’ শ্রমিকের ৪ সপ্তাহ।

তিনি জানান, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শ্রমিকদের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের ধর্মঘটের ৮ দিনে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব জুটমিলের প্রায় এক হাজার মেট্রিকটন পাটপণ্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিজেএমসি। চলতি অর্থবছরে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি মিল ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, দৌলতপুর, খালিশপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলে কাঁচা পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ লাখ ৫৩ হাজার কুইন্টাল। এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৪ লাখ ২ হাজার ৪৯৮ কুইন্টাল, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৬ ভাগ। এসব মিলের মধ্যে ৭টি মিলের শ্রমিকরা রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন।

উল্লেখ্য, পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, পে-কমিশনের ন্যায় অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পে শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ১ জুলাই ২০১৩ ঘোষিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান ও খালিশপুর, দৌলতপুর, কর্ণফুলী জুট মিলের শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ ও সব পাওনা পরিশোধের দাবি আদায়ে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব সাত পাটকলে অনির্দিষ্টালের ধর্মঘট গত ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়। সেই থেকে এসব মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন আন্দোলনে থাকা শ্রমিকরা।

 

এইচ ই