বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের সময় সকাল ১০টা থেকে দেশটির নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরের অ্যাসেম্বলি হলে সাধারণ অধিবেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এই নির্বাচনে ভোট দেয় জাতিসংঘের ১৯০টি সদস্যরাষ্ট্র। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে ৯৯ দেশের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয় কূটনীতি বিষয়ক বিশেষ দূত ও রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস পান ৯১টি দেশের ভোট।
অর্থাৎ, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশি, যিনি জাতিসংঘের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ছয়টি শাখার অন্যতম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর ফের বাংলাদেশকে সেই সাফল্য এনে দিলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
প্রসঙ্গত, এমন এক প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ভোট অনুষ্ঠিত হলো, যখন বিশ্বজুড়ে একাধিক সংঘাত, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জাতিসংঘের আর্থিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।
একইসঙ্গে জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হতে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ফলে সাধারণ পরিষদের ৮১তম নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী এক বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন খলিলুর রহমান।
এনএইচ