বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি এ সময়কে ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সমস্যার তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই; প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলে জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব। জবাবদিহিতার এই সংস্কৃতিকেই তিনি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সিলেটে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে, যার মোট আয়তন প্রায় ৩০ একর। চলতি বছরই প্রায় ১৮৭ একর জায়গাজুড়ে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এর আয়তন বিদ্যমান দুটি শিল্পনগরীর সম্মিলিত আয়তনের প্রায় ছয় গুণ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হবে। একই সময়ে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আখাউড়া-সিলেট রেলপথের কাজ শেষ হওয়ার সময়ই সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নকাজও সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তরুণদের সামাজিক শক্তি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনার শুরুতে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতা, স্কুলশিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আন্দোলনটি ব্যাপক গতি লাভ করে এবং এর মধ্য দিয়ে শক্তিশালী সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি হয়। তার ভাষ্য, প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বছরের ব্যবধানে একই জাতি দ্বিতীয়বারের মতো গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জেগে উঠেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এস