রাজধানীর ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ভেতরে নোংরা হাঁটুপানি। বসার টুল দোকানে তুলে রেখেছেন অনেক দোকানদার। ক্রেতা যাঁরা আসছেন হাঁটুপানিতে নেমেই করছেন কেনাকাটা। তাঁদের মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। এমনই একজন রুম্পা খান। এসেছেন উত্তরা থেকে। তিনি জানান, ২৭ রোজার পর ভিড় কমবে এই আসাতেই কেনাকাটা করেননি এত দিন।

আজকে বুধবার সকাল ১২টার দিকে এসেছেন এই মার্কেটে। হাঁটুপানিতে নেমেই সারছেন কেনাকাটা।

দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে রুম্পা বললেন, ‘কিছুই কেনাকাটা হয়নি। মার্কেটে এসে দেখি হাঁটুপানি। এখন বাধ্য হয়ে পানিতে নেমেই কিনতে হচ্ছে। নোংরা পানিতে পা চুলকাচ্ছে।’

এই মার্কেটের দোকানদার শাড়ি সেন্টারের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, ‘এটা নতুন কিছু না। বৃষ্টি হলেই এই মার্কেট ডোবে। আমাদের দোকান গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। ক্রেতারা আসতে চায় না। সমস্যাটার কেউ সমাধানও করে না। খালি আমাদের লস হয়।’

সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে এই মার্কেটে অনেকেই কেনাকাটা সেরেছেন এভাবে সীমাহীন ভোগান্তি নিয়ে পানিতে ভিজে। তবে বিক্রেতাদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে বেশির ভাগ ক্রেতাই ফিরে গেছেন কেনাকাটা না করে।

শুধু হকার্স মার্কেট নয়। আজকের বৃষ্টিতে পানি উঠেছে আশপাশের মার্কেটগুলোতেও। বাদ যায়নি নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও, চাঁদনিচক কোনোটাই। তবে এর মধ্যেই চলছে ঈদের কেনাকাটা। বিক্রেতারা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেকে বাসা থেকে বের হতে পারেননি। তাই প্রত্যাশার তুলনায় ক্রেতা কম।

দুপুর ১টার দিকে নিউ মার্কেটের ১ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল, অনেক ক্রেতা ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন। দোকানগুলোতেও নেই তেমন ভিড়।

নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে রাস্তায় ও মার্কেটের ভেতরে বেশ কিছুটা জায়গায় গতকাল জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে ওই এলাকার মানুষ ও মার্কেটে আসা লোকজন।

নিউমার্কেটের বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টিতে সব সময় এই রাস্তায় পানি ওঠে। বৃষ্টি বেশি হলে মার্কেটে পানি ঢোকে। তখন ক্রেতারা ১ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে পারেন না। বেচাকেনায় ভাটা পড়ে।

মহাখালী থেকে ঈদের কেনাকাটা সারতে নিউ মার্কেটে এসেছিলেন নাজমুন নাহার। তিনি বলেন, ‘উত্তরা থেকে বাসে করে এসেছি। এখানে এসে দেখি মার্কেটে পানি উঠেছে। আর প্রচণ্ড বৃষ্টি। তাই দাঁড়িয়ে আছি। বৃষ্টি কমলে কেনাকাটা করব।’ পানি ওঠার কারণে আজ সব কেনাকাটা করতে পারবেন না, তাই কাল বৃহস্পতিবারও আসবেন বলে জানালেন।

নিউ মার্কেটের পোশাকসহ নানা সামগ্রী বিক্রেতা লিলি স্টোরের মালিক মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘এই ঈদে দোকানে যে ভিড় হইতো তা সামাল দেওয়ার কথা না। কিন্তু দেখেন বেচা কেনা নাই। বৃষ্টির লাইগ্যা মানুষ বাড়ি থেকে বাইর হয় নাই।’

নিউমার্কেটের বাইরে ফুটপাতেও বসেছে অনেক দোকান। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সেই দোকানগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। পাশেই দোকানদাররা বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেক দোকান বন্ধ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দোকানদার মুরাদ মিয়া বলেন, ‘অখনও বনি করি নাই, বেচা কেনা নাই, দোকান যেই খুললাম বৃষ্টি শুরু হইলো।’

একই রকম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে পাশের গাউছিয়া মার্কেটের কিছু অংশেও। দীর্ঘ সময় ধরে পানি থাকায় এই মার্কেটের উত্তর দিকে রাস্তার পাশের দোকানদারেরা দোকান খুলতে পারেননি। ময়লা পানি মাড়িয়ে রাস্তা চলাচল করতে হয়েছে মানুষকে।

গাউছিয়া মার্কেটের সামনে কথা হয় ধানমন্ডির বাসিন্দা আইনুন আসাদের সঙ্গে। তিনি জানান, ঈদের কেনাকাটা অনেকটাই করেছেন। তবে গহনাসহ আনুষঙ্গিক কিছু জিনিস কেনা বাকি। এ দিকে আবার বৃহস্পতিবারই ঢাকার বাইরে চলে যাবেন দেশের বাড়ি রংপুরে। তাই বাধ্য হয়েই কেনাকাটা করছেন নোংরা পানিতে হেঁটে হেঁটে। তিনি বলেন, ‘এমনিতে নোংরা পানি এড়িয়ে চলি। এখন বাধ্য হয়েই হাঁটতে হচ্ছে। চাঁদনিচক মার্কেটের সামনেও দেখা গেল, মানুষের ভিড় কম। অনেকে দোকানের সামনে পানিতে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা সারছেন। আজিমপুরের বাসিন্দা মলি বেগম জানান, ‘দুই ঘণ্টা ভিজে আর পানিতে হেঁটে কেনাকাটা সারলাম। আরও অনেক কিছু কেনার ছিল। কিন্তু যা অবস্থা মনে হয় জ্বর আসবে। তাই বাসা চলে যাচ্ছি।’

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গ্রিন রোড ও পান্থপথ সড়কে ছিল কোমরসমান পানি। পানির ওপর দিয়ে রিকশা চললেও পানির উচ্চতার কারণে রিকশার পাটাতনে পানি চলে আসে। এ সময় কিছুক্ষণ ওই সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দ্বিগুণ, তিন গুণ বেশি ভাড়ায় রিকশায় চড়ে মানুষ। রিকশা স্বল্পতায় অনেককে কোমরপানিতে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।