বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামণির চিকিৎসা সিঙ্গাপুরে নয়, বাংলাদেশেই হবে। এজন্য ১২ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। আগামী শনিবার তার শরীরে অস্ত্রোপচার হবে।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের তৃতীয় তলায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেন। এ সময় মুক্তামণির বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তামণি বিরল রোগ নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘মুক্তামণির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোয়া করছেন।

তিনি সব সময় মুক্তামনির খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তামণিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার বি.কে টাং অস্ত্রোপচারে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এতে আমরা হতাশ হইনি।

আজ (বুধবার) প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী ১২ সদস্যের চিকিৎসক বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী শনিবার মুক্তামণির শরীরে অস্ত্রোপচার শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন, মুক্তামণিকে তিনি হাসপাতালে দেখতে আসবেন। আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, মুক্তিমণিকে যেন সুস্থ করে তুলতে পারি।’

ডাক্তার সামন্ত লাল সেন জানান, ১২ বছর বয়সী মুক্তামণি প্রায় ১ মাস ধরে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। তার ডান হাতে গাছের ছালের মতো বিরাট একটি স্তূপ রয়েছে, যার ওজন প্রায় ৮/১০ কেজি হবে। একই সঙ্গে এ রোগটি তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত মাসের (জুলাই) ২৪ ও ২৫ তারিখ তার রোগ বিষয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বি. কে ট্যাংয়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা কথা হয়।

ভিডিওতে মুক্তামণিকে দেখানো হয়। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্রও দেয়া হয়। কিন্তু ২৮ জুলাই ডাক্তার বি.কে ট্যাং সাফ জানিয়ে দেন তাদের পক্ষে মুক্তামণির চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।

ডা. সামন্ত লাল সেন আরও জানান, মুক্তামণির বর্তমান অবস্থা এবং বোর্ড গঠিত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার (আজ) বেলা সাড়ে ১১টায় বার্ন ইউনিটের তৃতীয় তলায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে।

১২ সদস্যবিশিষ্ট চিকিৎসক বোর্ডে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক চিকিৎসক মো. জুলফিকার আলী লেনিন রয়েছেন জানিয়ে বোর্ড প্রধান বার্ন ইউনিটের পরিচালক প্রফেসর আবুল কালাম বলেন, মুক্তামণিকে বাঁচাতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।

বুধবার বিকালে মুক্তামণিকে জড়িয়ে কান্না করছিলেন তার বাবা-মা আর ছোট বোন হীরামণি। তাদের চোখের পানি যেন শুকিয়ে গেছে।

বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, বোর্ড আলোচনায় তাকেও ডাকা হয়েছে। মেয়ের চিকিৎসার বিষয়ে ডাক্তাররা তাকে সবকিছু বলেছেন। অপারেশনে শঙ্কা আছে। এজন্য তার এবং তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রাথমিক অনুমতিও নেয়া হয়েছে।

মুক্তামনির মা আসমা খাতুন বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঋণী। তিনি মুক্তামণির খোঁজখবর নিচ্ছেন। মেয়ের অপারেশন শুরু হবে শুনে বুক কাঁপছে। আমার মেয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।’

এমএনজে