গাজীপুরের কালীগঞ্জে একই রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সংগঠিত ওই ডাকাতির ঘটনায় ৬৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ সাত লাখ টাকাসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়েছে। এ সময় দুই জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে সশস্ত্র ডাকাত দল।
বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জামালপুর ইনিয়নের মেন্দিপুর ও উত্তর জামালপুর (বালুয়াভিটা) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সন্দেহ ভাজন পাঁচ জনকে আটক করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
ডাকাতির শিকার পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর গ্রামের প্রাক্তন ইউপি সদস্য মুঞ্জুর হোসেন ও তার সিঙ্গাপুর প্রবাসী চাচাত ভাইয়ের বাড়িতে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১৫/১৬ জনের মুখোশ পরা একটি সশস্ত্র ডাকাত দল কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ঢুকে পড়ে।
পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা, সিঙ্গাপুর থেকে পরিবারের জন্য আনা ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও তাদের ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল হ্যান্ডসেট ও বিদেশি কাড়র-চোপড় লুট করে নেয়।
এ সময় ওই সিঙ্গাপুর প্রবাসীর মা বাধা দিলে তাকে সশস্ত্র ডাকাত দল এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে উপজেলার একই ইউনিনের উত্তর জামালপুর (বালুয়াভিটা) গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মাসুম মিয়ার বাড়িতে অপর এক ডাকাতির ঘটনায় ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও হজের জন্য রাখা চার লাখ সাত হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ১৫/১৬ জনের মুখোশ পরা একটি সশস্ত্র ডাকাত গেটের তালা ভেঙ্গে বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে লুটপাট চালায় তারা। ডাকাত দলের অস্ত্রের আঘাতে মাসুমের স্ত্রী আহত হন। পরে তাকে কালীগঞ্জ উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে এসব ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চান্দেরবাগ এলাকা থেকে থানা পুলিশ পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও (ভিটিপাড়া) গ্রামের সুরুজ আলী ভূঁইয়ার ছেলে শরীফুল ইসলাম (২২), বড়াইদ গ্রামের মৃত শামস উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩০), কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বালীগাঁও গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রনি মিয়া (১৮), নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার বিবি জোড়া গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) ও একই জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইমরান হোসেন (১৯)।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, এ নিয়ে গত দেড় মাসে ওই এলাকায় সাতটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনাগুলোর ব্যাপারে থানা পুলিশ ডাকাতির মালামাল উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে এর কোনোটির ব্যাপারে ভূক্তভোগীদের মামলা না করতে নিরৎসাহিত করেছে।
কিন্তু বাস্তবে ডাকাতি হওয়া মালামাল তো উদ্ধার হয়নি বরং ডাকাতদের না ধরার কারণে ওই এলাকায় ডাকাতের উৎপাত বেড়ে গেছে।
জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম জানান, নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে ডাকাতদের ভয়ে আমার ইউনিয়নের লোকজন সব সময় আতঙ্কে থাকে। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় এলাকার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি ওই এলাকার ডাকাত সর্দারসহ ২/৩ জন ডাকাতকে আমরা আটক করেছি। অন্যদেরও আটকের ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'
এমকে





