ভিক্ষা দিয়ে ভিক্ষুক বানানাে যায়, দারিদ্র্য দূর করা যায় না। সরকার খােলামন নিয়ে নাগরিক সমাজের সুপারিশগুলাে বিবেচনা করবেন এবং বাজেটে প্রয়ােজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করবেন বলে এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে 'প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম'।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈষম্য হ্রাস, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রান্তজন সহায়ক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত হোক স্লোগান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম এসব কথা বলেন।
প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম বলেন, ফুটো পাত্র দিয়ে পানি সেচলে যেমন ফল হয় না, ঠিক তেমনি পুরনাে, গতানুতিক, উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া চিন্তা দিয়ে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তােলা সম্ভব নয়।
টেকসইভাবে দারিদ্র্য নির্মূল করতে চাইলে দরিদ্র মানুষদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমােচন প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের কথা হৃদয় দিয়ে শুনতে হবে, বুঝতে হবে এবং তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাদের সহযােগিতা করতে হবে আন্তরিকতার সাথে।
মানুষের মনে ভরসার জায়গা সৃষ্টি করতে হবে। লুটপাট, নির্যাতন,অনিয়ম রােধ এবং সরকারী কর্মসূচীগুলাের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, তথা ‘প্রকৃত সেবাগ্রহিতা’ চিহ্নিত করে সেবাদান করা হলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম থেকে ১৪টা দাবি জানানো হয়।
১. জনগণের অনগ্রসর অংশ তথা দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়নকে ' জাতীয় অগ্রাধিকার' ঘোষণা করা হােক।
২. জাতীয় অগ্রাধিকার এর আলােকে দেশের সকল সরকারী - বেসরকারী ও উন্নয়নশীল সংস্থা , প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সমন্বয়ে সরে “ দারিদ্র্য নির্মল বিশেষ কর্মসূচী ' ( ক্রাশ প্রােগ্রাম ) গ্রহণ করা হােক ।
৩. ইউনিয়ন ভিত্তিক দারিদ্র্য নির্মল পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৪. দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে নিজ নিজ এলাকায় হতদরিদ্র ব্যক্তিদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে তা সংশ্লিষ্ট এলাকাভিত্তিক ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হােক।
৫. সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর পরিধি ও পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি করে হতদরিদ্র ও প্রান্তজনদের সহায়তা বাড়ানাে হােক।
৬.খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সহায়ক আইন প্রণয়ন করা।
৭. আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক গ্রামীণ উদ্যোগগুলিতে ৫% সুদের নীচে ঋণ সহায়তা সহজলভ্য করা।
৮. বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরীতে সহায়তা আরও জোরদার করা।
৯. যুব সমাজের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১০. সমতলের আদিবাসী, দলিত, চা শ্রমিক, হরিজন ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে এমনভাবে কর্মসূচী গ্রহণ করা হােক যাতে তারা কোন বিপত্তি ছাড়াই প্রয়ােজনীয় সেবা গ্রহণ ও জীবনমানের উন্নতি করতে পারে।
১১. প্রত্যেক এলাকায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি গঠন করে সেই কমিটিকে দারিদ্র্য নির্মূল কর্মসূচীর মনিটরিং এর দায়িত্ব দেয়া হােক।
১২. উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা এবং তথা প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা।
১৩. দারিদ্র্যমুক্ত ও শােষণমুক্ত সমাজ গড়ে তােলার উদ্দেশ্যে গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা বৃদ্ধি করা।
১৪, দারিদ্র্য নির্মূল কর্মসূচীতে সহায়তাদানকে 'ট্যাক্স রিবেট' প্রদানের ঘােষণা দেয়া।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আরও দাবি জানানো হয়। মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলােপ করে সকল নাগরিকের সুষম সুযােগ সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আমীর-উল-ইসলাম, বিশেষ অতিথি সদস্য সচিব প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম রাহী দাস, সহ-সভাপতি প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম শামসুন নাহার আজীজ লীনাসহ প্রমুখ।
এসএম/এএস





