বাগেরহাটের মংলা বন্দরে জাহাজের কন্টেইনারের ভেতর থেকে আবু তাহের নামে (২৬) এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তার অভিযোগ, চার দিন আগে এক ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে তাকে ধাক্কা দিয়ে এই কন্টেইনারের ভেতর ফেলে তালাবদ্ধ করে চলে যায়।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, এন্টিগুয়ার পতাকাবাহী ইলিন-এস নামের জাহাজের একটি কনটেইনারের তালা ভেঙে বৃহষ্পতিবার রাত ১০টার দিকে আবু তাহেরকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় মংলা বন্দর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবু তাহের চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকার মো. সাবেরের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি ট্রাকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করতেন।

শুক্রবার বিকালে মংলা বন্দর হাসপাতালের চিকিৎসক প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘কন্টেইনারে আটকে থাকার কারণে আবু তাহের অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ মংলা বন্দরে পৌঁছে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বন্দর শ্রমিকরা ওই জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামানোর কাজ শুরু করলে একটি কন্টেইনারে বাইরে থেকে শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি আমাকে জানালে কন্টেইনারের তালা ভেঙে ওই যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারে সময় তিনি একটি ট্রাকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করেন বলে দাবি করেছেন।’

উদ্ধার কাজে যাওয়া শ্রমিকদের বরাত দিয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, আবু তাহের গত রবিবার চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ নম্বর জেটিতে তার চালক ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসেন। সেখানে আসার পর তার চালকের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চালক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে কন্টেইনারের ভেতরে ফেলে দিয়ে তালা আটকে দিয়ে চলে যান। ঘটনাটি মংলা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মংলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর এলাহী বলেন, ‘মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়েছি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবু তাহেরের শারীরিক অবস্থা দেখে এসেছি। সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল রহস্য জনা যাবে। তিনি কি সেখানে পড়ে গেছেন নাকি কেউ তাকে ফেলে দিয়েছেন।’

এএইচ