এ উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলের স্কাই বলরুমে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশে অবস্থিত আলজেরিয়ার দূতাবাস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেল ওয়াহাব সাইদানি ও তাঁর সহধর্মিণী মেরিয়েম সাইদানি অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনীতিক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশে বসবাসরত আলজেরীয় কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রামের বীর ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আলজেরিয়ার এই বিপ্লব আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

রাষ্ট্রদূত আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, সার্বভৌমত্ব, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির নীতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারার জনগণের ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাঁর দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুনের নেতৃত্বে দেশটি জ্বালানি খাতের বাইরেও রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো, খনিজ সম্পদ, কৃষি, আবাসন ও বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে কাজ করছে।

বাংলাদেশ-আলজেরিয়া সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে আলজেরিয়া প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি জ্বালানি, ওষুধশিল্প, বস্ত্র, চামড়া, স্বাস্থ্যসেবা ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের আলজেরিয়া সফরকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আলজেরিয়ার সরকার ও জনগণকে মুক্তি বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানান। তিনি দুই দেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী বাংলাদেশের বস্ত্র, শিল্পপণ্য, খাদ্যপণ্য, সিরামিক ও হালকা প্রকৌশল খাতে আলজেরীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ খাতে আলজেরিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, গত ২০ থেকে ২২ অক্টোবর বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের আলজেরিয়া সফরকালে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে সফরকালে আলজেরিয়া সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধশিল্প ও শিল্পোন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তিতে বর্লেন, ‘আলজেরিয়া চিরজীবী হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক।’