সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শামা ওবায়েদ জানান, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আলোচনার জন্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হলে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের জন্য সর্বোত্তম ফল অর্জনের চেষ্টা করবে সরকার। পানি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকার বিবেচনায়।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আরও অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এসব সমস্যার সমাধানে সংলাপ ও আলোচনার বিকল্প নেই।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গঙ্গা চুক্তি ও অভিন্ন নদীসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। গঙ্গার পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এ কারণে চুক্তি নবায়ন বা সংশোধনের আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, শুধু বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে নতুন বা সংশোধিত চুক্তি চাওয়া হতে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে সুরক্ষামূলক বিধান যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্প্রতি পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে থাকা নিশ্চয়তার ধারাটি ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানিপ্রবাহ ৮০ শতাংশের নিচে নেমে গেলেও বাংলাদেশ তার নির্ধারিত হিস্যার ৮০ শতাংশ পাবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। তবে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন নিয়েই দুই দেশের মধ্যে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানেও আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও ন্যূনতম যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ। তাঁর মতে, দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
এস
















