বাটন প্রেস ও তাৎক্ষণিক মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ভাতা বিতরণ
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার প্রান্তিক কৃষক ও নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থার শুভ সূচনা ঘটে।
মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ উচ্চারণ করে একটি বিশেষ বাটন প্রেস করে প্রণোদনা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বাটন প্রেস করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে চাষিদের নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেটে সরাসরি প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যায়।
অর্থ পৌঁছানোর নিশ্চিত তথ্য মোবাইল বার্তায় পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে স্বস্তির সাথে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। তাঁর সুর মিলিয়ে মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী, স্থানীয় জনগণ ও সুবিধাভোগী আখচাষিরাও সমস্বরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনিতে পুরো রাজপথ ও ময়দান মুখরিত করে তোলেন।
প্রণোদনার পরিসংখ্যান ও বণ্টন কাঠামো
পরিকল্পিত ও আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় রাজশাহী অঞ্চলের তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মোট সুবিধাভোগী আখচাষি: ৩৮,৯৭০ জন
মোট প্রণোদনার পরিমাণ: ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা
বিতরণ পদ্ধতি: শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ক্যাশলেস ডিজিটাল ট্রান্সফার (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস)
সরকারের এই ডিজিটাল ও তাৎক্ষণিক নগদ সহায়তার ফলে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সুবিধাভোগীরা সরাসরি সরকারি বরাদ্দের টাকা তাঁদের ওয়ালেটে পেয়েছেন।
স্থানীয় নেতৃত্ব ও জনসভার আবহ
রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে আয়োজিত উক্ত বিশাল সুধী ও জনসমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।
জনসভায় অন্যান্যের পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহী অঞ্চলের বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সরকারের এই গতিশীল উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলে বন্ধ ও স্থবির হয়ে থাকা চিনি কলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং আখচাষিদের উৎপাদনে উৎসাহিত রাখতে এই প্রণোদনা এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। কৃষিপ্রধান রাজশাহীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক কাজ করছে বলে জনসভায় তুলে ধরা হয়।
কৃষকবান্ধব নীতি ও উত্তরবঙ্গের কৃষি বিপ্লব
কৃষকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে এবং সরকার প্রধানের দিকনির্দেশনায় উল্লেখ করা হয় যে, দেশীয় চিনি শিল্প পুনর্গঠনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আখ চাষে কৃষকদের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে ফলন বাড়াতেই এই নগদ সহায়তার হাত বাড়ানো হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে আখ চাষের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রান্তিক কৃষকেরা তাঁদের কঠোর শ্রমের সঠিক মূল্য ও স্বীকৃতি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এমএম















