সফরের তৃতীয় দিনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাকে "অত্যন্ত ফলপ্রসূ" বলে অভিহিত করেছেন মাহ্দী আমিন।
জাতিসংঘ সদর দফতরের মিডিয়া চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
জবাবে দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্বের ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মরণ করেন।এলডিসি উত্তরণে সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধবৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর জন্য মহাসচিবের প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গুতেরেস।সাধারণ পরিষদে ভাষণ ও সামাজিক সুরক্ষার অঙ্গীকারসাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তুলে ধরেন।
পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার ও বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
দেশে নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসফরের তৃতীয় দিনে মোট সাতটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মধ্যে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সমতা ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ ('পিপল টু পিপল টাইস') জোরদারের বিষয়ে কথা হয়। জলবায়ু সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার ৪টি প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্য সম্মেলনে জানানো হয়, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে আগামী কয়েক বছরে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী (যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী) এবং ২৫ হাজার নতুন ধাত্রী (মিডওয়াইফ) নিয়োগ করা হবে।প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান এবং উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের সদস্য ও জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম





