শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ অভিনন্দন জানান। বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।
প্রায় ২১ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন, অভিবাসন, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ নয় বছরের বেশি সময় ধরে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন চান।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বিরোধের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত। রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পিসবিল্ডিং কমিশনের ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলে জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা সবার জন্য সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।
ভাষণে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
এস





